মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর পাঁচজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণা
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মোতাছিম বিল্যাহ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিনজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর দুই আসামি বুলবুল আহমেদ ও গোলামুর রহমান সেলিম জামিনে থেকে পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাকিব বিশ্বাস, কালাম মোল্লা, আব্দুল্লাহ আল মতিন বাবু, বুলবুল আহমেদ ও গোলামুর রহমান সেলিম। এ মামলার নূরু ভূঁইয়াকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি বুলবুল আহমেদ গোলাপ।
ঘটনার বিবরণ
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৪ মে রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার আগের দিন গোলামুর রহমান সেলিম ইমরানের বোনের কাছ থেকে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। পরদিন রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে সাকিব ও বুলবুল ইমরানের বাড়িতে গিয়ে তাকে ডেকে নেয়। পরে তাকে সদর উপজেলার রমনপুর গ্রামের একটি ব্রিজের পাশে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার সময় তৎকালীন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালেহা ইসলাম ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের জানান। পরে ইমরানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যার কারণ
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার প্রায় ছয় মাস আগে প্রতিবেশীর সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারি হয়েছিল ইমরানের। পরে গ্রাম্য সালিশে মীমাংসা হলেও সেই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
মামলার প্রক্রিয়া
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি বুলবুল আহমেদ গোলাপ জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মাস্টার ২০১১ সালের ১৫ মে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রোববার আদালত এ রায় প্রদান করেন।



