ফরিদপুরে হাত-পা বিচ্ছিন্নের ঘটনায় মামলা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভাইরা
ফরিদপুরে হাত-পা বিচ্ছিন্নের ঘটনায় মামলা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে হায়দার মুন্সি (৪৩) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সুজন মুন্সি (৩০) মারাত্মক জখম হয়েছেন। আহত অবস্থায় প্রথমে তাদের চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফাজেলখাঁর ডাঙ্গী গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। আহত দুই ভাই ওই এলাকার মৃত ধলা মুন্সির ছেলে। হায়দার মুন্সি বিবাহিত এবং তার তিন মেয়ে ও এক ছোট ছেলে রয়েছে।

এ ঘটনায় হায়দার মুন্সির মা নিরু খাতুন (৬০) বাদী হয়ে চরভদ্রাসন থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার বিবরণে নিরু খাতুন বলেন, তার ছেলেরা পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাদের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। প্রায় তিন বছর আগে একই গ্রামের রিপন খাঁ ও কালাম মণ্ডলের মধ্যে একটি মারামারির ঘটনায় হায়দার মুন্সি সাক্ষী দেন। সেই সাক্ষ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন কাজ শেষে দুই ছেলে বাড়ি ফেরে। পরে বাড়ির সামনের রাস্তায় গেলে একই গ্রামের নুরুল ইসলাম মণ্ডলের ছেলে কালাম মণ্ডল (৩৮), ইউছুপ মণ্ডলের ছেলে ছাত্তার মণ্ডল (৩০), বারেক মণ্ডলের ছেলে শাহবরাত মণ্ডল (২৫)সহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হায়দারের ওপর হামলা চালায়। হায়দার মুন্সি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে স্থানীয় হালিম ফকিরের বাড়ির উঠানে আশ্রয় নিলে সেখানেই তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার দুই হাত ও দুই পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছোট ভাই সুজন মুন্সি এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে রক্তের দাগ এখনও লেগে রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হায়দারের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে মীম বলেন, "আমার বাবার এমন অবস্থার জন্য যারা দায়ী, তাদের উপযুক্ত বিচার চাই। আমাদের ভরণপোষণের আর কেউ নেই।"

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, এই নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই ঘটনায় মারাত্মক জখম অবস্থায় দুই যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত দুই যুবকের মা বাদি হয়ে রাতে ৩২৬ ধারায় থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।