শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কথিত এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রচারণাটি একটি গুজব, যা ইতিমধ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য
শিক্ষামন্ত্রী তার পোস্টে লিখেছেন, 'কথিত প্রশ্ন ফাঁসের প্রচারণাটি স্রেফ একটি গুজব, তা ইতিমধ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এমতাবস্থায় '২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে জন্ম নেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে কোনো রকম ফ্যাক্টচেক না করেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডার বিষয়ে এ ধরনের বিবৃতি প্রদান কেবল নিন্দনীয়ই নয়, বরং নির্দারুণ হতাশাজনক।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করতে চাই যে পরীক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কোনো প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।'
এনসিপির বিবৃতি
এর আগে এক বিবৃতিতে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত জানান, গত ২০ তারিখ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। এনসিপি মনে করে, সরকারের এমন উদাসীনতা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এনসিপির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আমরা দাবি করছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবিলম্বে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করুক। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলন করব।'
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সতর্কতা
চলমান এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। শনিবার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'একটি অসাধু চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক ও নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। চক্রটি অবৈধ আর্থিক লাভ এবং সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে চলমান পরীক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।'
পুলিশের গ্রেপ্তার
এর আগে, শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন জানান, চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রতারণার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে প্রচারণা চালায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেকেই সেসব প্রশ্নপত্র কিনেছেন, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি। আমরা ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।'
পুলিশ আরও জানায়, 'এই চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধ করা হচ্ছে, যেন তারা কোনো প্রশ্ন ফাঁসের প্রস্তাবে সাড়া না দেন এবং সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ দেখলে পুলিশকে জানান।'
সরকারের অবস্থান
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছি। কোনো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, 'আপনারা নির্ভার হয়ে পরীক্ষা দিন। গুজবে কান দেবেন না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব সময় আপনাদের পাশে আছে।'



