মানিকগঞ্জ জেলায় একদিনের ব্যবধানে আরও একটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সদর উপজেলার চেরাগঘোনা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের সামনে রাস্তার পাশ থেকে আমিনুর (৩০) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার জেলার সিংগাইর ও দৌলতপুরে পৃথক দুটি লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
নিহতের পরিচয় ও পেশা
নিহত আমিনুর হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুরা ইউনিয়নের আইলকুন্ডী কলোনির বাসিন্দা এবং আবুল হোসেনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে চেগারঘোনা এলাকায় গৃহকর্তা আমিনুরের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করতেন তিনি।
ঘটনার পর এলাকায় গুঞ্জন
লাশ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকায় গুঞ্জন চলছে যে এটি কি সত্যিই সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি মারধরের পর দেহের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা! প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের দাবি, আমিনুরের শরীরে ছড়িয়ে থাকা আঘাতের চিহ্ন সেই সন্দেহকেই জোরালো করছে।
স্বজনদের বক্তব্য
ধুলশুরা ইউনিয়নের বিল্লাল খান বলেন, শুধু দুর্ঘটনা হলে এমন আঘাত থাকে না। তিনি মনে করছেন এটি পরিকল্পিত কিছু। নিহতের চাচাতো বোনের কণ্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা স্পষ্ট। তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও কাজে গিয়েছিলেন আমিনুর; কিন্তু রাতে আর ফেরেননি। ফোনে পাওয়া যায়নি, যে বাড়িতে কাজ করত সেখানেও ফোন ধরেননি। সকালে গিয়ে দেখি শরীর জখমে ভরা লাশ রাস্তার ধারে পড়ে আছে। তিনি বলেন, এটি দুর্ঘটনা নয়, আমরা ধারণা করছি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা বিচার চাই। বাবা আবুল হোসেনও একই প্রশ্ন তুলেছেন, বৃহস্পতিবার বহুবার ফোন দিয়েও ছেলের খোঁজ পাইনি। সকালে এসে দেখি রাস্তার পাশে লাশ।
গৃহকর্তার বিবরণ
গৃহকর্তা আমিনুর জানান, বৃহস্পতিবার রাতে চেগারঘোনা বাজারে গেলে পূর্বপরিচিত পলাশের নেতৃত্বে টুটুলসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির সময় আমিনুর এগিয়ে আসে। আমরা দুজনই আঘাতপ্রাপ্ত হই। পরে প্রশাসন এসে ঘটনাটি মীমাংসা করে দেয়। এরপর বাড়ি ফিরি। রাতে কখন সে বের হয়েছে, জানি না। সকালে শুনি রাস্তার পাশে তার লাশ পড়ে রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন বলেন, দেহে গাড়ির চাকার দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।



