জামিনের জন্য এক কোটি টাকা চাওয়ার অডিও জেনুইন: তথ্যানুসন্ধান কমিটি নিশ্চিত করেছে
জামিনের জন্য এক কোটি টাকা চাওয়ার অডিও জেনুইন: কমিটি নিশ্চিত

জামিনের জন্য এক কোটি টাকা চাওয়ার অডিও জেনুইন: তথ্যানুসন্ধান কমিটি নিশ্চিত করেছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক আসামিকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রসিকিউটরের এক কোটি টাকা চাওয়ার কথোপকথনের অডিও জেনুইন বা সত্যিকারের বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটি। কমিটির প্রধান ও ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কমিটির অনুসন্ধান ও নিশ্চিতকরণ

পাঁচ সদস্যের এই কমিটি এখনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি, তবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১০ মার্চ প্রথম আলো ও নেত্র নিউজের যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই তথ্যানুসন্ধান বা ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভয়েসটা আমরা ডিটেক্ট করেছি যে এটা জেনুইন। তাদের মধ্যেই কথোপকথনটা হয়েছে। এটা এআই না, জেনুইন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এর বাইরে কিছু পাই নাই এখনো।’

অডিওতে কথোপকথনের বিবরণ

অডিওতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের এক সদস্যের কাছে তৎকালীন প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারকে এক কোটি টাকা চাইতে শোনা যায়। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, কথোপকথনে ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের এক সদস্যের কণ্ঠ এবং সাইমুম রেজা তালুকদারের কণ্ঠ শনাক্ত করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পটভূমি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা

সাইমুম রেজা তালুকদার প্রসিকিউটরের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ফজলে করিম চৌধুরীর স্বজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশের আগের দিন ৯ মার্চ তিনি ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেন। পেশায় শিক্ষক সাইমুম রেজা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করলে তিনি প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান।

চট্টগ্রাম-৬ আসনে (রাউজান) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের দাবি, সাবেক এই সংসদ সদস্যকে আটকের প্রায় দুই মাস পর গত বছরের এপ্রিলে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার প্রথম তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অর্থের বিনিময়ে জামিন নিশ্চিত করতে পারবেন বলে জানান। ২০২৫ সালের শেষের দিকে পরিবারটি সাইমুম রেজার সঙ্গে তাঁদের কথোপকথন রেকর্ড করা শুরু করে। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, সাইমুম রেজা মোট ২৬ বার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এবং নিজে অন্তত ১৪ বার ঘুষ চেয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালের পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তাঁকে মামলাটি থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তবে সাইমুমের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দায়িত্ব থেকেও সাইমুমকে সরানো হয়নি। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই পদে এরপর নিয়োগ দেওয়া হয় আমিনুল ইসলামকে।

এই ঘটনা দুর্নীতি ও ঘুষের গুরুতর অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রশ্ন তুলছে। তথ্যানুসন্ধান কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে।