সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার যুক্তিতর্ক শুরু, জামিনে থাকা আসামিরা অনুপস্থিত
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার যুক্তিতর্ক শুরু

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। তবে অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে জেলহাজতে থাকা ৬ জন ছাড়া অন্যরা উপস্থিত ছিলেন না। আদালত পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ২৭ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন।

আসামিদের অনুপস্থিতি ও নির্দোষ দাবি

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় অভিযুক্ত ১০ আসামির মধ্যে ৬ জন জেলহাজতে আছেন, তিনজন জামিনে আছেন এবং একজন পলাতক রয়েছেন। আজকের শুনানিতে জামিনে থাকা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে ৭ এপ্রিল একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চান বিচারক। সে শুনানিতে অংশ নিয়ে অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।" আরিফুল হক চৌধুরীর আইনজীবী এমদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম জানান, আরিফুল হক চৌধুরী ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত নন বলে তাঁর বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার পটভূমি

২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত ও ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকার্য শুরু হয়।

কিবরিয়া হত্যা মামলায় সাক্ষী অনুপস্থিত

এদিকে, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় আজ সাক্ষী অনুপস্থিত থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ১৯ মে নির্ধারণ করেছেন। সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "মামলার সাক্ষী না আসায় মঙ্গলবার সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি।" আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেরুন নেছা পারুলের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আদালতে উপস্থিত হননি।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে একটি জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ওই হামলায় তাঁর ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী নিহত এবং আহত হন অন্তত ৭০ জন। ঘটনার পরদিন হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা হয়। পরে মামলা দুটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৫ সালের ১৮ মার্চ শহীদ জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাইউমসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

ওই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করে বাদীপক্ষ। পরে মামলা পুনঃতদন্তের পর ২০১১ সালের ২০ জুন আসামির সংখ্যা ১৬ থেকে বাড়িয়ে ২৬ জনের নামে দ্বিতীয় দফা অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এটি নিয়েও আপত্তি জানায় নিহত কিবরিয়ার পরিবার। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে নতুন করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। পরে ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১৭১ জন সাক্ষী রয়েছেন।