কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আজ মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এই নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
এর আগে আমির হামজাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। তবে তিনি নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন বিচারক। ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী কৌঁসুলি নাসির উদ্দিন জানান, মানহানির মামলায় গত ২ এপ্রিল কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজাকে ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়। নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।
এমপির প্রতিক্রিয়া ও মামলার পটভূমি
এ বিষয়ে জানতে আজ বেলা ১২টার দিকে সংসদ সদস্য আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গাড়ির ভেতর আছি, পরে কথা বলব।’ সিরাজগঞ্জের আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জানি না ওসব।’ ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা দায়রা ও জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদকে নাস্তিক বলে অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন আমির হামজা। সেই সঙ্গে তিনি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করেছেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সিরাজগঞ্জে মানহানির মামলায় এমপি আমির হামজাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যকে ঘিরে পরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় তাঁকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য আমির হামজা। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর সমাধান খোঁজা হচ্ছে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আইনজীবী ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই মামলাটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে মানহানি ও আইনি জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। এছাড়াও, এটি সংসদ সদস্যদের বক্তব্য প্রদানের সীমা ও দায়িত্ব সম্পর্কে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।



