ডিএমপির সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ঢাকার একটি আদালত সাবেক ডিফেন্স গোয়েন্দা ফোর্স (ডিজিএফআই) কর্মকর্তা মো. আফজাল নাসেরকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের সময় দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলার সপ্তম ধাপে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামশেদ আলম সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদন শুনানির পর এই আদেশ জারি করেন।
তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের শুনানি
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এই উন্নয়ন নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের ছয় ধাপে মোট ২১ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা—ডিবি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর কফিল উদ্দিন—আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড চান। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে আসামি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখেছেন এবং ঘটনা সম্পর্কে শুধুমাত্র আংশিক বিবরণ দিয়েছেন, যা আরও জেরার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
আবেদনে আরও বলা হয় যে আসামির ভূমিকা নির্ধারণ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। আবেদন শুনানির পর আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই সিদ্ধান্ত তদন্তকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ও মামলার পটভূমি
আফজাল নাসেরকে ৩০ মার্চ ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। মামলার বিবৃতি অনুসারে, ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরপুর-১০-এর ফালপাট্টি এলাকায় একটি হামলা সংঘটিত হয়। অভিযোগ রয়েছে যে আসামি একাধিক দিক থেকে গুলিবর্ষণ করেন।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয় এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। ঘটনার পর দেলোয়ারের স্ত্রী মোশা লিজা ৬ জুলাই ২০২৫ তারিখে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই মামলাটি ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



