বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হত্যা মামলায় তারিক সিদ্দিকীর দুই সহযোগীর চারদিনের রিমান্ড
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় হওয়া একটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকীর দুই সহযোগীকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এই আদেশ দেন, যা রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরিচয়
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মো. মহিদুল ইসলাম (৪২) ও মো. চান মিয়া (৪৬)। তাদের মধ্যে একজন তারিক সিদ্দিকীর ড্রাইভার এবং অন্যজন কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আদালতের শুনানি ও রিমান্ড আবেদন
এদিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার এসআই আমজাদ হোসেন তালুকদার। তিনি দুই আসামির সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন, কিন্তু শুনানি শেষে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ঊর্ধ্বতন নেতাদের নির্দেশনা তারিক সিদ্দিকীর মাধ্যমে পেয়ে তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতেন।
অভিযোগের বিবরণ
রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন, মারধর ও হত্যাচেষ্টার উদ্দেশে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনবিরোধীর কাছে তারিক সিদ্দিকীর পক্ষ থেকে অর্থ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পৌঁছে দিতেন। এই অভিযোগ মামলার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তদন্তে জোর দেওয়া হচ্ছে।
গ্রেফতারের পটভূমি
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল মহিদুল ইসলামকে ঠাকুরগাঁও থেকে এবং চান মিয়াকে ঢাকার ভাষানটেক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের গ্রেফতারের পর থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত জোরদার করেছে, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
মামলার ঘটনা
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিউমার্কেট এলাকার ১ নম্বর গেটের সামনে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ ও হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদ (৪৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তদন্তে বলা হয়েছে, আসামিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, যা মামলার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই মামলাটি রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে, এবং আদালতের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা দিতে পারে।



