বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী ও তাঁর দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাত দিন পর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি করেন নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম।
মামলার পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে গত শনিবার রাতে দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস মামলা করতে গেলে তাঁকে বাদী না হয়ে নিহত ইতি রানীর মাকে বাদী করার পরামর্শ দেয় পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মামলা করতে গিয়ে তাঁরা বারবার বাধার মুখে পড়েছেন। পরে গত সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না থাকায় আদালত আবেদন গ্রহণ করেননি।
স্বামীর বক্তব্য
মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত রাতে বরগুনা থানায় মামলা করেছি। এর আগে থানায় গিয়েছিলাম মামলা করতে, কিন্তু মামলার বাদী থেকে আমাকে বাদ দিয়ে আমার শাশুড়িকে বাদী করে মামলা করতে বলেন পুলিশ। এরপর গত সোমবার দুপুরে আইনজীবীর মাধ্যমে বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না থাকায় আবেদন গ্রহণ করেননি আদালত।’ দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস আরও বলেন, ‘শুরু থেকেই এই মৃত্যুকে পুলিশ আত্মহত্যা বলছেন। মামলা তো করেছি, এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে কি না তা নিয়ে ভয়ে আছি।’
ঘটনার বিবরণ
গত বুধবার বরগুনা শহরের থানাপাড়া এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪) এবং তাঁর দুই মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইতি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন।
পুলিশের বক্তব্য ও পরিবারের দাবি
ঘটনার পর বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের অভিযোগ, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত। তাঁদের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।



