আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেছে প্রসিকিউশন। আজ রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার বিবরণ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় হানিফ ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী ও কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য
আজকের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ পর্যায়ে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম বলেন, আইনানুগভাবে এই আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি। মিজানুলের আগে যুক্তিতর্কে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন বৈধ ছিল। কিন্তু সেটা সরকার মানতে চাইল না। সরকার অ্যাকশনে গেল। যখন শিক্ষার্থীদের হত্যা করা হলো তখন কিছু রাজনৈতিক দল এই আন্দোলন যৌক্তিক ভেবে সমর্থন দিয়েছে। পরে এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার উন্মাদ হয়ে যায় এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে থাকে।
আইনের প্রশংসা
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের প্রশংসা করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে এই আইন করা হয়েছে। এটি একটি চমৎকার আইন। এত আগে কী করে আইন প্রণয়নকারীরা এত দূরদর্শী হলেন, এমন প্রশ্ন তুলে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগ
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, এই চার আসামির বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশদাতা ও সরাসরি অংশগ্রহণের দায়ে তাদের অভিযুক্ত করা হয়।



