ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় শিশুদের খেলাধুলার বিরোধকে কেন্দ্র করে জগমোহন চন্দ্র রায় (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি সুশীল চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
নিহত জগমোহন উপজেলার দেওগাঁও (প্রভাতপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে বিকালে দেওগাঁও গ্রামে মামলার বাদী সুমন চন্দ্র রায়ের ৫ বছরের ছেলে মুকুলের সঙ্গে প্রতিবেশী সুশীল চন্দ্র রায়ের ৬ বছরের ছেলে শ্যামলের খেলা নিয়ে ঝগড়া হয়। তখন সুমন দুই শিশুকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে শান্ত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুশীল সুমনের বাড়ির আঙিনায় এসে গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন।
হামলা ও হত্যাকাণ্ড
একপর্যায়ে সুশীলের পক্ষ নিয়ে চঞ্চল চন্দ্র রায়, হরিন্দ্রনাথ রায়, রতেন চন্দ্র রায় ও অখিল চন্দ্র বর্মন লাঠিসোটা নিয়ে সুমনের বাড়িতে হামলা চালায়। সুমনের বৃদ্ধ বাবা জগমোহন চন্দ্র রায় বাধা দিতে গেলে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় প্রধান আসামি সুশীল বৃদ্ধ জগমোহনের গলা টিপে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে জগমোহনের মুখ দিয়ে সাদা ফেনা বের হতে থাকলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
গুরুতর আহত জগমোহনকে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান।
পরিবারের বক্তব্য
নিহতের ছেলে সুমন চন্দ্র রায় বলেন, সামান্য বাচ্চাদের খেলাধুলার ঝগড়া নিয়ে প্রতিবেশীরা আমার প্রবীণ বাবাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করবে তা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের ওপর চরম অন্যায় করা হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি শাহজাহান আলী জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। প্রধান আসামি সুশীলকে আজই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



