বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলরুমে ‘আইনজীবীদের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সেমিনারের প্রধান অতিথি ও সভাপতি
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শহীদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
মূল প্রবন্ধে প্রস্তাবিত ১১টি খাত
মূল প্রবন্ধে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বাজেটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ১১টি খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। খাতগুলো হলো—
- পৃথক বিচার বিভাগীয় বাজেট
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা
- বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি
- আদালতের অবকাঠামো আধুনিকীকরণ
- বিচার বিভাগীয় প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ
- মামলার নথি ও ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশন
- গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি
- বিচারক ও কর্মচারী সংখ্যা বাড়ানো
- নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা
- বিচার বিভাগীয় সংস্কার ও কর্মদক্ষতা তহবিল গঠন
- আইন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে
অ্যাডভোকেট আকন্দ বলেন, “শুধু বাজেটের পরিমাণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো এর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকে। জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো, পদোন্নতি ও অর্থের জন্য যদি বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ধাপে ধাপে সুপ্রিম কোর্টের কাছে হস্তান্তর করা উচিত। তা না হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আংশিকই থেকে যাবে।
বক্তাদের বক্তব্য
সেমিনারে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিচার বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারী হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তারা আরও বলেন, বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ না হলে বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিচারপতি শহীদুল ইসলামের বক্তব্য
বিচারপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, বিচার বিভাগের জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি জরুরি। বর্তমান বরাদ্দ দিয়ে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমানো ও বিচার কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তিনি আরও বলেন, বিচারক ও আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ এবং সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগের পৃথক বাজেট ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন অপরিহার্য।
সেমিনারে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।



