বগুড়ার শেরপুরে নিলুফা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে পুলিশ উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের দড়িমুকুন্দ উত্তরপাড়ায় একটি বাড়ির ঘরের মেঝে থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পারিবারিক পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, নিলুফা আক্তার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের দড়িমুকুন্দ উত্তরপাড়ার ট্রাক হেলপার এখলাস আলীর স্ত্রী। নিলুফা দুই বছরের সন্তান, শ্বশুর মঞ্জু মিয়া, শাশুড়ি রত্না বেগম ও দেবর মোস্তাকিনের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। স্বামী এখলাস গত তিন দিন ধরে কাজের জন্য বাইরে রয়েছেন।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কান্নার শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা বাড়িতে ছুটে আসেন। তারা দেখতে পান মেঝেতে নিলুফার লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
আত্মীয়দের পলায়ন ও সন্তানের হদিস
পুলিশ আসার আগেই শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। যাওয়ার আগে নিলুফার দুই বছরের সন্তানকেও সঙ্গে নিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত
শেরপুর থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম জানান, মৃতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এটি হত্যা না আত্মহত্যা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ব্যাপারে থানায় আপাতত অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।



