লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের ডিহিদার বাড়িতে এক বিধবা ও তার তিন এতিম কন্যাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেবর মানিক হোসেন ও ভাসুর বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
বিধবার বক্তব্য
মৃত মমিন হোসেনের স্ত্রী রোমানা আক্তার জানান, সাত বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর তিনি শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে ওই ঘরেই বসবাস করে আসছিলেন। শ্বশুর মারা যাওয়ার প্রায় এক বছর পর ভাসুর ও দেবর তাকে ও তার মেয়েদের জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দেয়। তারা দাবি করে যে, শ্বশুর মৃত্যুর আগে ওই জায়গা তাদের হেবা করে দিয়েছেন। অথচ শ্বশুর জীবিত থাকতে কখনোই এ বিষয়ে কিছু বলেননি। বরং শ্বশুর স্বামীর নামের জমি দলিল করে তাকে ও তার মেয়েদের ফেরত দিয়ে গেছেন।
রোমানা আরও বলেন, ওই ঘর তার মেয়েদের। এ ঘরের কর্তন হিসেবে দুই ভাইকে তার স্বামী ১৫ বছর আগে ৯ লাখ টাকা দিয়েছেন। তার মেয়েরা প্রায় একশতক জমির মালিক। কিন্তু তাকে ও মেয়েদের মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি তিন এতিম মেয়ে নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। তাদের ভয়ে আশেপাশের কেউ মুখ খুলছে না। তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে এবং ঘরে ফিরতে চান।
এতিম কন্যার বক্তব্য
রোমানার বড় মেয়ে ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মাইশা আক্তার বলেন, তারা এখন নানুর বাড়িতে থাকে। তাদের অনেক কষ্ট হয়। চাচা-জেঠা তাদের মেরে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে এবং এখনো ঘরে উঠতে দিচ্ছে না।
প্রশাসনের ভূমিকা
ঘরছাড়া হওয়ার পর রোমানা আর্মি ক্যাম্পে অভিযোগ দেন। আর্মি ক্যাম্প থেকে উভয় পক্ষকে ডেকে শালিসের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বিল্লাল ও মানিক শালিস মানতে রাজি না হওয়ায় কোনো সমাধান হয়নি।
শালিস ও সার্ভেয়ার ফারুক পাটোয়ারী জানান, তারা অনেকবার বসেছেন কিন্তু সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। কারণ খন্ডে খন্ডে জমি দিলে এতিম মেয়েদের কাজে লাগবে না। তাছাড়া অভিযুক্তরা ঘরের বিষয়ে কোনো সমাধানে রাজি নয় এবং নিজেদের প্লট মাপতে চায় না।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযুক্ত ভাসুর বিল্লাল হোসেন বলেন, রোমানা তার মা-বাবাকে শান্তি দেয়নি। বাবা তাদের জায়গা লিখে দিয়ে গেছেন। তারা তাকে প্রাপ্য জায়গা মেপে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখনকার অভিযোগ মিথ্যা।
দেবর মানিক হোসেন বলেন, মেয়েরা তাদের। তারা সব কিছু বুঝিয়ে দিয়েছেন। তারা তাদের সম্মান নষ্ট করছে।
প্রতিবেশীর বক্তব্য
প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তার জানান, এতিম মেয়েসহ মমিনের বউ ওই ঘরেই থাকত। শ্বশুর মারা যাওয়ার পর দেবর-ভাসুর মিলে তাদের মেরে ঘর থেকে বের করে দেয়। এখনো ঘরে উঠতে দেয়নি। জায়গা পরিমাপ করলেও ঘর ভিটি ও অন্যান্য জায়গা পুরোপুরি বুঝিয়ে দেয়নি।
বিধবা রোমানা আক্তারের এতিম তিন কন্যা হলো মাইশা আক্তার (১৩), অষ্টম শ্রেণি; আমেনা আক্তার (১১), ষষ্ঠ শ্রেণি; ও মালিহা আক্তার (৬), শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী।



