বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেন প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে বিকেলে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
প্রধান বিচারপতির শোকবার্তা
ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি আজ এক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের (চেম্বার আদালতসহ) বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
জানাজার বিবরণ
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন (৯০) ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার বাদ এশা ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজা হয়। আজ রোববার বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেন প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে বিকেল পৌনে চারটার দিকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
জানাজায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা অংশ নেন। জানাজার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জীবন ও কর্ম
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি (২০১৬-১৭) ছিলেন। জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৪ নভেম্বর, ভোলায়। শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তিনি। প্রবীণ এই আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।



