পল্লবী শিশু ধর্ষণ হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণ, শুনানি ১ জুন
পল্লবী শিশু ধর্ষণ হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণ

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী স্কুল ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন রাখা হয়েছে।

আদালতের শুনানির দিন ধার্য

রবিবার বিকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ দিন নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্গজ পিটার গোমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে রবিবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দুই জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর মৃত্যুর সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন। এদিন সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে আদালতে হাজির করা হলেও তাদের এজলাসে তোলা হয়নি।

ঘটনার বিবরণ

গত ১৯ দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে। এরপর গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়, তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিল। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে এবং পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুই জনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ বলা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকতো রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতো। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেয়। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যায়।

আইনি পদক্ষেপ

এদিকে আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনও সদস্য আইনি সেবা দেবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী হিসেবে আজিজুর রহমান দুলুকে শনিবার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।