প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিহত শিশু রামিসার পরিবারের বাসায় গিয়ে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। খবর বাসসের।
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর মোটরকেড রাত ৯টা ৫২ মিনিটে বাসায় পৌঁছায়। তিনি ভিতরে গিয়ে রামিসার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলেন এবং প্রায় ১৮ মিনিট সেখানে ছিলেন।
সাক্ষাতের সময় রামিসার পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। রামিসার মা ও বোনও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী স্নেহের সাথে রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন। রামিসার মা, যিনি তার মেয়ের পাশে বসেছিলেন, তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমান জানান, রামিসার পিতা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, 'আমরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করায় আমাদের মেয়েকে হারিয়েছি। আমরা আমাদের বড় মেয়েকে নিয়ে ভালো জায়গায় থাকতে চাই।' জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ঠিক আছে, আমি তোমাদের জন্য ভালো বসবাসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।'
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী রামিসার পিতাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, প্রধানমন্ত্রী রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিয়েছেন।
আইন ও বিচার প্রক্রিয়া
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে মামলার চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আদালতকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. সফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে আট বছরের রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে। মিরপুর পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, যা তার সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রতিবাদ সৃষ্টি করে।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে বিক্ষোভকারীরা দ্রুত বিচার ও খুনিদের ফাঁসির দাবি জানায়।
পুলিশ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সোহেল রানা ধারা ১৬৪-এর অধীনে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।



