বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা রামিসা হত্যাকারীর বিষয়ে ঢাকা বারের বক্তব্য নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২২ মে) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কোনো আইনজীবী ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে বলতে পারেন যে তিনি রামিসার হত্যাকারীর পক্ষে আইনি লড়াই করবেন না। এটি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু কোনো আইনজীবী বার এমন বক্তব্য দিতে পারে না।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব সম্পর্কে শামারুহ মির্জা
তিনি বলেন, আপনি আপনার ক্ষোভ থেকে বলতে পারেন যে আপনি ধর্ষককে মারতে চান। এটি ঠিক আছে। কিন্তু রাষ্ট্র তা বলতে পারে না। রাষ্ট্রের উচিত প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করা এবং তা দ্রুত করা। রাষ্ট্রের কাছে জঘন্যতম অপরাধী থাকলেও তার নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র তাকে কারো হাতে তুলে দিতে পারে না।
শরিয়া আইন ও ধর্ষণ প্রতিরোধ
ফখরুলকন্যা বলেন, আপনার মনে হতে পারে শরিয়া আইন চালু করলে ধর্ষণ কমে যাবে। কিন্তু ইউরোপের অনেক দেশে ধর্ষণের হার শূন্যের কোঠায়, অথচ সেখানে শরিয়া আইন নেই। আবার অনেক মুসলিম দেশে শরিয়া আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ কমেনি।
বাংলাদেশে যৌন নির্যাতনের বাস্তবতা
শামারুহ মির্জা আরও বলেন, বাংলাদেশে বেশিরভাগ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয় নিজের বাড়িতে, আত্মীয়ের হাতে বা প্রতিবেশীর হাতে। ঢাকায় এমন কোনো মেয়ে নেই যে গাউসিয়ায় খারাপ স্পর্শ পাননি। তিনি বলেন, এটি আমাদের পুরুষ জাতির সমস্যা। এখন আবার স্ত্রী তার স্বামীকে ধর্ষণ ও খুনে সাহায্য করছে।
ধর্ষণ প্রতিরোধে বহুমুখী পদক্ষেপের প্রয়োজন
তিনি বলেন, শুধু আইন দিয়ে এই জঘন্য সমস্যা সমাধান করা যাবে না। ক্যান্সারের মতো এখানে সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন এবং অনেক সহায়ক চিকিৎসার প্রয়োজন। ধর্ষণ কমাতে হলে ধীরে ধীরে অনেক কিছু একসঙ্গে করতে হবে।
পেডোফিলিয়ার জন্য আলাদা আইনের দাবি
শামারুহ মির্জা পেডোফিলিয়াকে আলাদা অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আইন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাদ্রাসাগুলোকে নিয়মের আওতায় আনতে হবে, মাদক নির্মূল করতে হবে, সীসার এক্সপোজার কমাতে হবে, ১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে হবে, পর্নোগ্রাফি বন্ধ করতে হবে এবং স্কুল-কলেজে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য কর্মশালা আয়োজন করতে হবে।
উন্নত দেশের উদাহরণ
উন্নত দেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যারা এসব নিয়ে কাজ করেন, তারা সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করেন। সামাজিক আন্দোলনে অর্থায়ন করা হয় এবং কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়। পেডোফিলিয়ার জন্য আলাদা পুলিশ টিম রয়েছে, যারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পেডোফাইল শনাক্ত করে শাস্তি দেয়। আমাদের দক্ষ জনবল ও সাইবার সিকিউরিটি টিম গঠন করতে হবে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ও ভবিষ্যৎ
ফখরুলকন্যা বলেন, বহু বছর আগেই এসব কাজ শুরু করা দরকার ছিল, কিন্তু হয়নি। সতেরো বছর ধরে হাসিনা সরকার বিরোধী দল দমন, গুম ও খুনে ব্যস্ত ছিল। এখন দেখা যাক। তার বিশ্বাস ইতিবাচক পরিবর্তন হবে।
পোস্টের শেষে তিনি নতুন তরুণ ও রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দেশের ভবিষ্যৎ। দয়া করে হুজুগে মাতবেন না। মিছিল মিটিং করবেন, কিন্তু মবকে না বলুন। প্রকৃত রাজনীতি করুন। নইলে আপনিও রক্ষা পাবেন না। ১৪ বছর আগে তিনি লিখেছিলেন, নগর পুড়লে দেবালয় রক্ষা পায় না। হাসিনাও রক্ষা পাননি।



