রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি এলাকাবাসীসহ গোটা দেশের মানুষের। নির্মম ওই ঘটনার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সবাই। এলাকাবাসী বলছেন, রামিসা আমাদের হৃদয়ে আজীবন থেকে যাবে। যতক্ষণ অপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর না হচ্ছে আমরা বিচার চেয়ে যাবো।
বৃষ্টির মধ্যেও বিচার চেয়ে জটলা
শুক্রবার (২২ মে) বেলা ১১টার পর কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়, শুরু হয় বৃষ্টি। পল্লবী-পূরবী রোডে রামিসার বাসার সামনে তখন মানুষের জটলা। পাড়া-প্রতিবেশিরা ঘটনার চার দিন পরও বাসাটিকে ঘিরে ভীড় করছেন। বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে রামিসা হত্যার বিচার ও ঘাতকের ফাঁসি চাচ্ছিলেন তারা।
নূরজাহানের বক্তব্য
এ সময় কথা বলছিলেন নূরজাহান নামে এক নারী। তিনি বলেন, "সকালে আমরা দেখতাম রামিসা স্কুল ড্রেস পরে বের হয়ে স্কুলে যেতো। আমার সঙ্গে তার প্রায়ই দেখা হতো। আমি তাকে আদরও করতাম। কিন্তু কী হতে কী হয়ে গেলো। এমন ঘটনা তার সঙ্গে ঘটে গেলো সবার হৃদয়কে নাড়িয়ে দিলো। কী জঘণ্য মানসিকতা হলে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। অপরাধীর প্রকাশ্যেই ফাঁসি হতে হবে।"
সুমনার প্রতিক্রিয়া
পাশের রুপনগরের আরিফাবাদ এলাকা থেকে এসেছেন আরেক নারী সুমনা। অভিযুক্তের ফাঁসি চেয়ে তিনি বলেন, "এই ঘটনার পর আমি ঘুমাতে পারছি না। আমারও চার বছরের মেয়ে আছে। আমি সময় পেলেই এই বাসার সামনে চলে আসছি।"
আল আমিনের মন্তব্য
শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে আসা আল আমিন বলেন, "সারা দেশের মানুষ হতবাক। মানুষ এত নিষ্ঠুর অমানবিক হয় কীভাবে। আমরা এর প্রকাশ্য ফাঁসি চাই। যাতে এ ধরনের কাজ কেউ কখনও করতে সাহস না পায়।" তিনি আরও বলেন, "বিচারহীনতার কারণে আজ এমন ঘটনা বার বার ঘটছে। দু-এক দিন এটি নিয়ে কথা উঠবে। এরপর সবাই যখন চুপ তখন আসামির জামিন হয়ে যায়।"
প্রতিবেশি চুমকির অনুভূতি
প্রতিবেশি চুমকি বলেন, "আমরা সবসময়ই দেখতাম রামিসাকে। সুন্দর করে কথা বলতো, খেলা করতো। সুন্দর করে সাজুগুজু করতো। দেখতেই ভালো লাগতো। আমরা অনেক আদর করতাম। মেয়েটা আমাদের হৃদয়জুড়ে থাকবে। আর ঘাতকের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি চলতে থাকবে।"
রামিসার পরিবারের অবস্থা
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে মেয়ের কুলখানির জন্য মন্সিগঞ্জে গেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লাসহ পুরো পরিবার। যাওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "বড় ভাই হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার এখানে এসেছিলেন। আমাকে বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।"
ঘটনার বিবরণ
প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে বেলা ১১টার দিকে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পাশের বাসার সোহেল রানা। এ ঘটনায় প্রথমে বাসা থেকে পালিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে স্ত্রীসহ গ্রেফতার করে। আর এ ঘটনা সারা দেশের মানুষকে নাড়িয়ে তোলে। প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে সাধারণ মানুষ। শুক্রবার পল্লবী, বায়তুল মোকররমসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে সভা-সমাবেশ হয়েছে।



