রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে তিনি এই মামলাটি পরিচালনা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে ঘোষণা
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আইনজীবী শিশির মনির এই সিদ্ধান্ত জানান। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পরিবারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।” পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, বিনা পয়সায় শিশু রামিসার পরিবারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করার মূল উদ্দেশ্য হলো যেন দ্রুত এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত হয়। অপরাধী যাতে দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ ও যথাযথ শাস্তি পায়, আদালতে সেই আইনি যুক্তি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
ঘটনার বিবরণ
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার পর রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আত্মগোপনে চলে গেলেও ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এছাড়া তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সোহেল রানা ইয়াবা সেবন করে শিশু রামিসার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে মামলার অন্য অজ্ঞাতনামা আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।
দেশজুড়ে ক্ষোভ
এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রাজধানীসহ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে ইসলামিক যুব ফ্রন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন স্মারকলিপি দিয়েছে। এছাড়া শোকার্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং নিহত শিশু রামিসার বাসায় যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।



