রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জশিট আগামী রোববারের বিকেলের মধ্যেই আদালতে দাখিল করা হবে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত রামিসার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে বের হওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ডিএনএ পরীক্ষার পর চার্জশিট
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ বিভাগ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। বর্তমানে ডিএনএ টেস্টের কাজ চলছে, যা সিআইডি ল্যাবে সম্পন্ন হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক এই পরীক্ষার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন। আশা করছি, রোববার দুপুরের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাবে এবং বিকালের মধ্যেই আমরা আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারব।”
দ্রুত বিচার ও আইন সংস্কারের ইঙ্গিত
তিনি আরও বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন হয় এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।” সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রধানমন্ত্রী রামিসার পরিবারের সাথে দেখা করে তাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন। তিনি রামিসার বড় বোনের পড়াশোনাসহ জীবনের সব আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া পরিবারটি একটি নিরাপদ আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারও ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করতে আইন সংশোধনের ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এ ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনের কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন হলে তা করা হবে। আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেছেন। আইনি সংস্কারের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যাতে ভবিষ্যতে দেশে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
ঘটনার পটভূমি
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেওয়া এই পদক্ষেপ ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার উদ্যোগকে ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।



