পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা
পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় হামলা মামলায় শিক্ষক-কর্মকর্তা আসামি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার পর পাল্টা হামলার অভিযোগে এবার শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুকিত মিয়াকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ

গতকাল বুধবার পটুয়াখালীর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলার আবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বাজার কমিটির সভাপতি মো. বশির উদ্দিন (৫০)। আদালতের বিচারক মো. আবু বকর আবেদনটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর আইনজীবী এ টি এম মোজাম্মেল হোসেন বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

আসামি তালিকা

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবুল বাশার খান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খোকন হোসেন, অ্যাগ্রো ফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মাছুদুর রহমান, অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহবুবুল আলম, কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আতিকুর রহমান, খামার তত্ত্বাবধায়ক আরিফুল ইসলাম, সেকশন অফিসার শাহাদৎ হোসেন, সহ–উপাচার্য কার্যালয়ের সেকশন অফিসার কাজী কাইয়ুম, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক জসীম উদ্দিন, প্রকৌশল বিভাগের সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগের বিবরণ

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, ৫ মে মামলার ১ নম্বর সাক্ষী আইয়ুব আলী (৪০) নিজের ভ্যান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের ফটকে অবস্থান করছিলেন। তখন আসামিরা তাঁকে ওই স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ না করে কিছুটা দেরি করলে আসামিরা তাঁকে ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে দেশি অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি ও বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেন। পরে তাঁর ভ্যানে থাকা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের মুদি ও মনিহারি মালামাল লুট করেন।

পূর্ববর্তী ঘটনা

এর আগে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় ১৩ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুকিত মিয়া বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলায় দলীয় পদ হারানো বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ১১ মে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। এ সময় বহিরাগত ব্যক্তিদের হামলায় একাধিক ব্যক্তি আহত হন। হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করেন।

দলীয় ব্যবস্থা

এদিকে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক বশির উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান ফারুক ও সুলতান শওকত, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুসা ফরাজী, জেলা মহিলা দলের সদস্য হেলেনা খানম, দুমকি উপজেলা বিএনপির সদস্য মতিউর রহমান, জসীম উদ্দিনসহ সাতজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দুমকি উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব পদ থেকে বহিষ্কৃত সালাউদ্দিন রিপন শরীফসহ সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।