ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত আজ বৃহস্পতিবার সাভারের আশুলিয়ায় স্ত্রী সীমা আক্তারকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী মো. রেজাউল করিম মাদবরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণা
ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ এ রায় ঘোষণা করেন। ঢাকা মহানগর আদালতের নাজির সুমন হাওলাদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
ঘটনার বিবরণ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় এক মেয়েসন্তানকে নিয়ে থাকতেন রেজাউল–সীমা দম্পতি। সীমা একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন, অন্যদিকে রেজাউল কোনো কাজ করতেন না। কাজের কথা বললে তিনি সীমাকে মারধর করতেন, যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ হতো। এই পারিবারিক বিবাদের জেরে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে রেজাউল প্রথমে সীমার মাথায় আঘাত করেন এবং পরে গলা কেটে হত্যা করেন।
ঘটনার পরবর্তী অবস্থা
ঘটনার পর রেজাউল পালানোর চেষ্টা করলে বাড়ির মালিকের সহায়তায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। সীমার বাবা জাহিদুল ইসলাম আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় রেজাউল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, তবে পরে জামিনে বেরিয়ে পলাতক হন।
মামলার অগ্রগতি
মামলাটি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট আশুলিয়া থানার পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি এই মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বিচারকালে আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।



