সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল: ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি
সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল: ১৫ কর্মকর্তা সংযুক্ত

সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিল: ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৩ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব মো. একরামুল কবির জানান, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের কারণে সেখানে কর্মরত জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তারা বেতন পাচ্ছিলেন না এবং তাদের অফিস গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের অন্যত্র পদায়ন করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার বিচারিক কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংযুক্ত কর্মকর্তাদের তালিকা

জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— শেখ আশফাকুর রহমান, বেগম শারমিন নিগার, মোহাম্মদ হালিম উল্লাহ চৌধুরী, রুহুল আমিন ও মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন। তারা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে সিনিয়র সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— মুনসী আব্দুল মজিদ, মোহা. ইমদাদুল হক, বি.এম. তারিকুল কবির ও মনজুর কাদের। তারা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে মো. হারুন রেজা ও মো. হাফিজুল ইসলামকে উপসচিব পদ থেকে সংযুক্ত করা হয়েছে। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার মুহসিনা হোসেন তুষি ও সাদিয়া আফরিনকে সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সিনিয়র সিভিল জজ পদমর্যাদার মো. আরমান হোসেনকেও সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ভূতাপেক্ষ কার্যকর

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে এবং এটি গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, বিচারিক প্রশাসনের কার্যক্রম গতিশীল করা ও অভিজ্ঞ বিচারিক কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কাজে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এ সংযুক্তি কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

উপসচিব মো. একরামুল কবির বলেন, অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে সচিবালয়ের কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে এবং ধাপে ধাপে অফিস গুটিয়ে নেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা, আর্থিক সুবিধা ও প্রশাসনিক অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে সরকার তাদের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সংযুক্তির ফলে বিচারিক কর্মকর্তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পদায়নের ক্ষেত্রেও একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সম্ভব হবে।