রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ঘটনার পরপরই তার স্ত্রী সম্পাকে আটক করা হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার সকালে স্কুল শেষে বাসায় ফেরার পথে প্রতিবেশী সোহেল রামিসাকে টেনে নিজের ফ্ল্যাটের বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। রামিসা মিরপুর পল্লবীর পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশের তদন্ত
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের সময় তার মাথা ও শরীর বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। খাটের নিচ থেকে মাথাবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে কাটা মাথা পাওয়া যায়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে।
- সোহেল রানা (৩২) পেশায় রিকশা মেকানিক এবং মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে।
- ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী সম্পা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
- পুলিশ ধারণা করছে, ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এলাকায় শোক ও আতঙ্ক
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বন্ধ দরজা ভেঙে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনের কারণ ও ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার স্ত্রীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



