ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৭) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সোমবার বিকেলে উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের পরিচয়
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন ত্রিশালের বাসিন্দা তাজমুল সরকার ওরফে সাদেক (২২), কিশোরগঞ্জের রুবেল মিয়া (৩৬) এবং নারায়ণগঞ্জের মো. রবিন (৩৭)। তাঁরা পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী। ঘটনার পর থেকেই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে অভিযান চালায় পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাঁরা উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে দীপু চন্দ্র দাসকে মারধর ও মরদেহের ওপর অমানবিক নির্যাতনে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া কারখানার শ্রমিকদের স্লোগান দিয়ে উত্তেজিত করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলেন এবং জনতাকে বর্বরোচিত হামলায় উৎসাহিত করেন।
ঘটনার বিবরণ
ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় গত বছর ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে কারখানা থেকে এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
গ্রেপ্তার ও জবানবন্দি
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দীপু চন্দ্র দাস হত্যায় গুরুত্বপূর্ণ আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।



