সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে হয়রানির অভিযোগ আইনজীবীর
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে হয়রানির অভিযোগ

সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেফতার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা সত্ত্বেও কৌশলে পূর্বের তারিখে পরোয়ানা দেখিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তার আইনজীবী। সোমবার (১৮ মে) সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু এই তথ্য জানিয়েছেন।

আইনজীবীর বক্তব্য

তিনি বলেন, “সর্বশেষ দুটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বেইলবন্ড দাখিল করা হয়েছে। তার পরপরই মামলার রেকর্ড মতে দেখা যায়, গত ১৬ মে সাব-ইন্সপেক্টর ইব্রাহীম খলিল যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। যা গত ১৭ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আগামী ২৩ মে আসামি ও তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করেন এবং আসামির বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো গত ১৭ মে দুপুর ২টায় সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। যা সংবাদ মাধ্যমে বহুল প্রচারিত হয়েছে। এরপরও যাত্রাবাড়ী থানার মামলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যে আদেশ দিয়েছেন তা কাম্য নয়। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালত উচ্চ আদালতের আদেশ মানতে বাধ্য, তবে এক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে।”

আইনি ব্যবস্থা

এখন হাইকোর্টের রিটের আদেশের অনুলিপি হাতে পেলে ওই প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হবে বলেও জানান আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের নির্দেশনা

এর আগে গত ১৭ মে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেফতার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সাঈদ আহমেদ রাজা, মুস্তাফিজুর রহমান ও মোনায়েম নবী শাহীন।

জুলাই গণআন্দোলনের মামলা

জুলাই গণআন্দোলনের সময়ে সংঘটিত দুটি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১২ মে বিচারপতি খায়রুল হক হাইকোর্টে জামিন পান। আদেশের পরে তার আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, সব মামলায় জামিন হওয়ায় আপাতত খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই। তবে এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানায়।

জুলাই গণআন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পাঁচ মামলায় ২৮ এপ্রিল বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

জামিনের নানা দিক

গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট জামিনের বিষয়ে রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও তিনি জামিন পান। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। তবে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে। এরপর যাত্রাবাড়ী থানায় আরিফ ও আদাবর থানায় করা রুবেল হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব মামলায় তিনি অধস্তন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ায় হাইকোর্টে আবেদন করেন। সেই দুই মামলায় ১২ মে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। তার বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতার ও পরবর্তী ঘটনা

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হক গ্রেফতার হন। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।