নতুন আইনে এলিট ফোর্স গঠনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
নতুন আইনে এলিট ফোর্স গঠনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জবাবদিহিমূলক এলিট ফোর্স গঠনে নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামী দিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। বর্তমান সরকার র‍্যাবের আইনি কাঠামোতে সংস্কার এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট এবং সুসংহত নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য

সোমবার (১৭ মে) দুপুরে র‍্যাব সদর দফতরে আয়োজিত বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, র‍্যাব মূলত বাংলাদেশ পুলিশ (৪৪ শতাংশ), সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (৪৪ শতাংশ) এবং আনসার, বিজিবি ও সিভিল স্টাফদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত এলিট ফোর্স। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে

র‍্যাবের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে শেখ হাসিনা তার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থে এই বাহিনীকে পুতুলের মতো ব্যবহার করেছিলেন। কিছুসংখ্যক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আইনবহির্ভূত ও বিপথগামী কর্মকাণ্ডের কারণে আজ পুরো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনও ব্যক্তি বা সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অপরাধের দায়-দায়িত্ব পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে স্ব-স্ব বাহিনীর নিজস্ব আইনি কাঠামো অনুযায়ী কঠোর তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইনের অধীনে যখন এ বাহিনীকে সংস্কার, পুনর্গঠন কিংবা নতুনভাবে নামকরণ করা হবে, তখন মার্কিন সরকার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করবে।

আইনি সংস্কারের যৌক্তিকতা

আইনি সংস্কারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে র‍্যাব সুনির্দিষ্ট কোনও স্বাধীন আইনের অধীনে পরিচালিত হয়নি। বরং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) আইনের একটি বিশেষ ধারার ওপর ভিত্তি করে ‘অ্যাডহক’ ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল। একটি রাষ্ট্রীয় এলিট ফোর্স এভাবে দীর্ঘদিন অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামোয় চলতে পারে না। এ আইনি ত্রুটি দূর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘আইন প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করেছে, যা মন্ত্রী নিজেই সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন।

প্রস্তাবিত আইনের বৈশিষ্ট্য

প্রস্তাবিত নতুন আইনে বাহিনীর সুনির্দিষ্ট কর্তৃত্ব, দায়িত্বের পরিধি এবং কঠোর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিধান যুক্ত করা হবে। বাহিনীর বর্তমান সম্পদ, লজিস্টিকস ও সক্ষমতা এ নতুন আইনের অধীনে প্রতিস্থাপিত হবে।

রাজনৈতিক ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসে পুলিশ, র‍্যাব কিংবা অন্য কোনও বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশে বা কোনও দলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। জনগণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এই বাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য।

গুম কমিশন ও আইসিটি আইন

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী গুম কমিশনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনও আইনগত এখতিয়ার ছিল না। ফলে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সরকার বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (আইসিটি) আইন সংশোধন ও শক্তিশালীকরণের কাজ করছে। এ আইনের সংস্কার হলে গুমের শিকার, গুমের হুমকিপ্রাপ্ত কিংবা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সব ধরনের অপরাধের বিচার সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় এই বিশেষ আদালতেই নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি ভিকটিম বা তাদের পরিবার সরাসরি ন্যায়বিচার পাবেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশসহ বিভিন্ন সামরিক-অসামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।