গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আন্দোলন রোববার সহিংস সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, তিন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, আট পুলিশ সদস্য, গাজীপুর সদর উপজেলার ইউএনও সাজ্জাত হোসেন ও দৈনিক দিনকালের স্টাফ রিপোর্টার দেলোয়ার হোসেনসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে গত বৃহস্পতিবার ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামে। তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নেতাও ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
লাল কার্ড কর্মসূচি ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ 'লাল কার্ড কর্মসূচি' নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যোগদান করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে অশালীন স্লোগান দিতে থাকে।
সকাল ১০টার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য গেট খোলার চেষ্টা করে। এ সময় শিবির সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
আহত ও হাসপাতালে ভর্তি
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে আহত অবস্থায় ১৫ জনকে আনা হয়েছে। গাজীপুর সদর থানার ওসি জানান, ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টার সময় ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বাইরে থাকা পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। জবাবে বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরাও পালটা ইটপাটকেল ছোড়ে। দফায় দফায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা শান্ত হলেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।



