জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে প্রায় সোয়া চার ঘণ্টা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেছেন বলে দাবি করেছেন প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম। শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা সিসিটিভির ভিডিও পর্যালোচনা করে রাশিদুল আলম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে ওই ব্যক্তি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন বিশমাইল গেইট দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে দিয়ে ব্যাচেলর কোয়ার্টার মোড় হয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় প্রান্তিক গেইটে পৌঁছান। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর মহিলা ক্লাব ও কলতান বিদ্যানিকেতনের সামনে দিয়ে চৌরঙ্গীর দিকে যান।
ঘটনার সময়রেখা
প্রক্টর আরও জানান, রাত ৭টা ৩১ মিনিটে ওই ব্যক্তি পদ্মপুকুরের উত্তর পাশের মাটির রাস্তায় প্রবেশ করেন এবং ৭টা ৪৩ মিনিটে সেখান থেকে বের হন। পরে আবার একই পথে ঢুকতে দেখা যায় তাকে। তিনি বলেন, রাত ৮টা ৭ মিনিটে চৌরঙ্গী মোড় হয়ে মেডিক্যালের সামনে দিয়ে ৮টা ২৬ মিনিটে প্রথমবার ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে শহীদ সালাম-বরকত হল মোড়ে যান ওই ব্যক্তি। পরে ৮টা ৩৩ মিনিটে একই এলাকা ঘুরে ট্রান্সপোর্ট এলাকায় ফিরে যান। প্রক্টর বলেন, এরপর আবার ঘটনাস্থলসংলগ্ন এলাকা অতিক্রম করে রাত ৯টার দিকে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের সামনে যান তিনি। সেখান থেকে পুনরায় শহীদ সালাম-বরকত হল মোড়ে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ট্রান্সপোর্ট এলাকায় যান।
আসামির গতিবিধি ও গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম
প্রক্টর জানান, রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি দুবার ঘটনাস্থলের সামনে গিয়ে আসা-যাওয়া করেন। এরপর রাত ১০টা ২০ মিনিটে চৌরঙ্গী মোড় হয়ে ছাত্রী হলের রাস্তা, শহীদ মিনার ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিয়ে আবারও ট্রান্সপোর্ট এলাকায় ফিরে যান। রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে তাকে আবার ঘটনাস্থলের দিকে যেতে দেখা যায়। পরে ট্রান্সপোর্ট এলাকায় ফিরে গিয়ে রাত ১১টা ১ মিনিটে শহীদ সালাম-বরকত হলের দিকে যান তিনি। পরে ফেরার পথে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে উল্লেখ করেন প্রক্টর। এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় আসামিকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ছাত্রীদের সব কটি হল ঘুরে রাত আড়াইটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় আসামিকে গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রাত দুইটায় সেই সময়সীমা শেষ হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পদত্যাগের দাবিতে আবার আন্দোলনে নেমেছেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে তিনটার দিকে বাসভবন থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে বেঁধে দেওয়া সময়ের কথা মনে করিয়ে দেন। জবাবে উপাচার্য বলেন, অপরাধী ক্যাম্পাসের বাইরের হওয়ায় বিষয়টি তাদের হাতে নেই। তবে সাভার-আশুলিয়া পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। দ্রুতই অপরাধীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, গত বুধবার রাতে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ছয় দফার প্রথমটি ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা। সেটি না পারলে দ্বিতীয় দফা অনুযায়ী দায় স্বীকার করে প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পদত্যাগ করতে হবে। এরপর দীর্ঘ সময় উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথোপকথন চলে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসার দাবি জানান। এর আগে, মঙ্গলবার রাত ১১টার পর পুরাতন ফজিলাতুন্নেসা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন এলাকায় দিয়ে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে ঝোপে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।



