নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মুক্তিশপুর গ্রাম থেকে নজরুল ইসলাম (৪৫) নামের ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ খবরে বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
স্ত্রীর বর্ণনা
নজরুলের স্ত্রী শাহানাজ বেগম সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চার-পাঁচজন ব্যক্তি তাঁদের বাড়ির সামনে এসে নজরুলের নাম ধরে ডাকাডাকি করেন। দরজা খোলার পর মুখোশধারী ডাকাত দলটির সদস্যরা ঘরে ঢুকে নজরুলের হাত-পা বেঁধে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে শাহনাজ বেগমকেও হাত-পা ও গলা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। তাঁর দাবি, ডাকাতেরা ঘরের চাবি নিয়ে আলমারি ও অন্য আসবাব তছনছ করে নগদ ৬০ হাজার টাকা, প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ আনুমানিক ১২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়। এ সময় ডাকাতদের চিনে ফেলায় তাঁর স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ডাকাতির সুস্পষ্ট কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তির গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে এবং তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নজরুলের স্ত্রীর হাত-পা বাঁধার চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতা বা দেনা-পাওনার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের অবস্থা
নজরুল ইসলাম উপজেলার মুক্তিশপুর গ্রামের গাজী মিয়ার ছেলে এবং পেশায় সুতা ব্যবসায়ী। তাঁর স্ত্রী শাহানাজ বেগমের দাবি, ডাকাতদের চিনে ফেলায় স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ ডাকাতির আলামত না পাওয়ায় ঘটনাটি ভিন্ন কোণে তদন্ত করছে।



