জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ আশিকুলের মায়ের জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালে
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ আশিকুলের মায়ের জবানবন্দি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আশিকুল ইসলামের মা আরিশা আফরোজ জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে এই জবানবন্দি প্রদান করেন।

আসামিরা কারা?

চার আসামির মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম বর্তমানে কারাগারে আছেন। আজ তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর দুই আসামি পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

জবানবন্দিতে আরিশা আফরোজ জানান, তাঁর ছেলে আশিকুল ইসলাম বনশ্রী নিবরাস মাদ্রাসায় নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তিনি নিজে দর্জির কাজ করেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে আশিকুল বাসায় এসে তাঁর সঙ্গে খাবার খায়। পরে আন্দোলনকারীদের আওয়াজ শুনে ছেলে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তিনি দেখেন, তাঁর ছেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অ্যাভিনিউ রোডে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হলে ছেলেসহ আন্দোলনকারীরা দৌড়ে ২ নম্বর রোডের দিকে চলে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছেলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন আরিশা আফরোজ। রাত পর্যন্ত ছেলে না ফেরায় তিনি বাসার গ্যারেজে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। রাত ১০টার দিকে এক ছেলে তাঁকে জিজ্ঞাসা করে, 'আন্টি কী হয়েছে?' তিনি বলেন, 'আমার ছেলে এখনো বাসায় ফিরেনি, ওর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।'

ভয়াবহ সেই ছবি

আশিকুলের মা বলেন, ওই ছেলেটি তখন মোবাইলে একটি ছবি দেখিয়ে বলে, 'দেখেন, এটা আপনার ছেলে কি না?' ছবিটি দেখে তিনি চিনতে পারেন যে এটি তাঁর ছেলে। ছবিতে তাঁর ছেলের মাথায় ব্যান্ডেজ, চোখ বন্ধ ছিল। ছবি দেখেই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। রাত ১২টার দিকে তিনি ছেলেকে দেখতে বনশ্রীর অ্যাডভান্স হাসপাতালে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচার দাবি

জবানবন্দিতে আরিশা আফরোজ আরও বলেন, পরে তিনি জানতে পারেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রেদোয়ানুল ইসলাম, রাফাত-বিন-আলম, রাশেদুল ইসলাম ও মশিউর রহমান গুলি চালিয়েছেন। তিনি ছেলে হত্যার বিচার চান।