দেশের বরেণ্য শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ভাষা সংগ্রামী এবং শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশের অন্যতম পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সোমবার (২৯ জুন) আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির সই করা এক বার্তায় এ শোক জানানো হয়।
শোকবার্তায় যা বলা হয়েছে
শোকবার্তায় বলা হয়, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবিক চর্চার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি একজন অসাধারণ চিত্রশিল্পী ছিলেন। শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক জাগরণেও অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের অন্যতম স্থপতি হিসেবে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
মানবিক কাজের উদাহরণ
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত শিশুদের যুদ্ধজনিত ট্রমা ও আতঙ্ক কাটিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার যে পাপেট শোর আয়োজন করেছিলেন, তা তার গভীর মানবিক বোধ ও শিশুবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির এক অনন্য উদাহরণ।
শিল্প, সংস্কৃতি, মানবতা এবং শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার বহুমাত্রিক অবদান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
শেষ জীবন
উল্লেখ্য, সোমবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।



