যশোরের শার্শার বেনাপোল বন্দরের গোডাউন থেকে ত্রাণ ভাণ্ডারের নির্ধারিত পণ্যের বাইরে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের দায়ে দুই রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন—বিজিবির হাতে আটক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী ও আরিফুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিপাই জামশেদ, সাগর ও হামিদুর রহমান।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর জন্য রবিবার (২১ জুন) রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে একটি গাড়িতে বেশ কয়েক বস্তা মালামাল ওঠানোর ভিডিও সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এই লোড কার্যক্রম ২৩ মিনিটে শেষ হয়। একই গাড়িতে রাত ১১.৫৮ থেকে ১২.০৪-এর দিকে আবারও মালামাল লোড করতে দেখা যায়। পরে রাত ১২:৪৫ থেকে ১:১০-এর মধ্যে উক্ত গাড়ি থেকে ২২-২৫ প্যাকেজ পণ্য আনলোড করতে দেখা যায়।
সে সময় সেখানে কাস্টমসের গোডাউনে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম চৌধুরী ও সিপাই মোহাম্মদ সাগরকে সিসিটিভি ক্যামেরায় উপস্থিত থাকতে দেখা যাওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। লোড-আনলোড করা পণ্য অবৈধ ও বিধি বহির্ভূতভাবে পাচারের উদ্দেশে আরিফুল ইসলাম চৌধুরী ও সিপাই মোহাম্মদ সাগর ট্রাকে লোড করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হয়েছে।
বিজিবির অভিযান
অপরদিকে একই রাত ২টার দিকে কাস্টমসের হেফাজতে থাকা কাস্টমস গোডাউন থেকে ত্রাণ ভাণ্ডারে কাস্টমস নির্ধারিত পণ্যের চেয়ে বেশি মালামাল পরিবহনের অভিযোগে বেনাপোল বাজারের দূর্গাপুর মোড় থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব ইন্দ্রজিৎ মুখার্জীসহ ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করে বিজিবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখা থেকে ৩ হাজার ২২টি শাড়ি, ৫৮টি থ্রি-পিস, ২০৮টি চাদর, ২৬৩টি কম্বল এবং ৮টি ওড়না ঢাকার ত্রাণ ভাণ্ডারে পাঠানোর একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে সহকারী কমিশনার অব কাস্টমসের পক্ষে রাহাত হোসেন স্বাক্ষর করেন। এই পণ্য পরিবহনের দায়িত্বে ছিলেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী।
ইন্দ্রজিৎ মুখার্জীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
ইন্দ্রজিৎ মুখার্জীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি ত্রাণ ভাণ্ডারে পণ্য পাঠানোর আড়ালে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের চেষ্টা করছিলেন। যা জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই রাতে বেনাপোল বাজারের দুর্গাপুর মোড় থেকে ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান আটক করে বিজিবি। কাভার্ডভ্যানটি ক্যাম্পে নিয়ে তল্লাশি করে গাড়িটিতে থাকা মালামালের কাগজপত্র যাচাই করে বিজিবি।
যাচাই শেষে ওই ট্রাকে ভারতীয় ৬ হাজার ৮টি শাড়ি, ৬৩টি থ্রি-পিচ, ৩৮৬ টি কম্বল, ২০৮টি চাদর, ৮টি ওড়না ও ৩৩ হাজার ২২২টি বিভিন্ন প্রকার কসমেটিকস সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩১০ টাকা। সেখানে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ডভ্যানের চালক মহসিন আলী ও হেলপার জাহিদ হাসানকে আটক করে বিজিবি।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা
এ ঘটনায় দুই জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন জন সিপাইসহ ৫ জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। এটার সত্যতা আমরা যাচাই করছি। দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”



