উপজেলা হাসপাতালে ৪৮৫ এক্স-রে ও ৩৯৫ আলট্রাসাউন্ড মেশিন অকেজো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
উপজেলা হাসপাতালে ৪৮৫ এক্স-রে ও ৩৯৫ আলট্রাসাউন্ড মেশিন অকেজো

জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৪৮৫টি এক্স-রে মেশিন ও প্রায় ৩৯৫টি আলট্রাসাউন্ড মেশিন অকেজো অবস্থায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে তা উপস্থাপন করা হয়।

অকেজো মেশিনের বিস্তারিত তথ্য

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১০টি হাসপাতালে অকেজো এক্স-রে মেশিনের সংখ্যা প্রায় ৪৮৫টি। এর প্রায় ৪০ শতাংশ (প্রায় ১৯৪টি) মেরামত অযোগ্য। বাকি ৬০ শতাংশ (প্রায় ২৯১টি) মেরামতের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২৫২টি হাসপাতালে অকেজো আলট্রাসাউন্ড মেশিনের সংখ্যা প্রায় ৩৯৫টি। এর প্রায় ৩৫ শতাংশ (প্রায় ১৩৮টি) মেরামত অযোগ্য। বাকি ৬৫ শতাংশ (প্রায় ২৫৭টি) মেরামতের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন।

কমিউনিটি ক্লিনিক ও মাতৃমৃত্যুর তথ্য

ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। যেসব ওয়ার্ডে এখনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই, সেখানে জমি প্রাপ্তি ও বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে আরও ৫৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবিরের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি লাখে আনুমানিক ৪ হাজার ৩৫৩ জন মা সন্তান প্রসবকালে মৃত্যুবরণ করেন। তবে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো মা মারা গেলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তাঁকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এএমআর বাড়ছে: অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর প্রাদুর্ভাব একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা। অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ব্যবহার, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং মানব ও প্রাণী খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে এই সমস্যা বাড়ছে। এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিকপ্রতিরোধী জীবাণু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এ সময় জীবাণু শনাক্তকরণ ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

চিকিৎসকের শূন্যপদ ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ

গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসকের পদের সংখ্যা ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে শূন্যপদ রয়েছে ৯ হাজার ৪০৭টি।

সংরক্ষিত নারী আসনের আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অতি দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

ঢাকার হাসপাতালে শয্যা সংকট ও ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয়

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যার চেয়ে ৪-৫ গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়ে থাকে। এত বিপুল জনসংখ্যার জন্য সরকারি হাসপাতালের টয়লেটগুলো সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ডায়ালাইসিস ও আইসিইউর ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকার এই ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রক্রিয়া আবার চালু করেছে। বর্তমানে ৪টি এমআরআই মেশিন ক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ক্যানসার রোগীর সংখ্যা ও নিবন্ধন কার্যক্রম

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মোছা. সানজিদা ইয়াসমিনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা আইএআরসি প্রকাশিত গ্লোবোক্যান ২০২২ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর আনুমানিক ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হন। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন ক্যানসারে মারা যান। আর বর্তমানে আনুমানিক ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন ক্যানসার রোগী জীবিত রয়েছেন অথবা চিকিৎসাধীন আছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখ ক্যানসার এবং পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস ক্যানসার ও মুখ-ঠোঁটের ক্যানসার বেশি দেখা যায়। ক্যানসার রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মাধ্যমে পপুলেশন-বেজড ক্যানসার রেজিস্ট্রি এবং হসপিটাল-বেজড ক্যানসার রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চলছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।