টেলিকম অবকাঠামোর জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি অ্যামটবের জরুরি আহ্বান
মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) টেলিকম অবকাঠামোর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংকট দেশজুড়ে টেলিযোগাযোগ সংযোগ বিঘ্নিত করতে পারে।
মাঠপর্যায়ে জ্বালানিসংকটের প্রভাব
অ্যামটবের মতে, ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ের টেলিকম কার্যক্রমে জ্বালানিসংকটের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের সূচনার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল অপারেটররা নিরবচ্ছিন্ন টেলিকম কার্যক্রমে সম্ভাব্য বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে। সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তা প্রদানের নির্দেশনা দিলেও মাঠপর্যায়ে এখনো সেই নির্দেশনার পুরোপুরি প্রতিফলন দেখা যায়নি।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বর্ষাকালের ঝুঁকি
অ্যামটবের অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশের কিছু এলাকায় ঝড়ের কারণে গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বিদ্যুৎ বিভ্রাট লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে সময় দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সংগঠনটি মনে করছে, বর্ষাকালেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যেতে পারে, যা টেলিকম নেটওয়ার্কের কার্যক্রমকে আরও বিঘ্নিত করতে পারে।
জরুরি সমন্বিত সহায়তা কাঠামোর দাবি
এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে একটি সমন্বিত সহায়তা কাঠামো প্রত্যাশা করছে অ্যামটব। এই কাঠামোর আওতায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- মূল নেটওয়ার্ক স্থাপনা এবং মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানি পরিচালিত বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) সাইটগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ।
- রক্ষণাবেক্ষণ পরিবহনের জন্য আলাদা জ্বালানি বরাদ্দ।
- গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম স্থাপনা এলাকায় লোডশেডিং কমানো।
- ঝড় ও আবহাওয়াসংক্রান্ত বিঘ্নের পর দ্রুততম সময়ে আরইবির বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা।
টেলিকম অবকাঠামোর ওপর বিদ্যুতের নির্ভরতা
অ্যামটব বলছে, বাংলাদেশের টেলিকম নেটওয়ার্ক অবকাঠামোতে প্রায় ৪৫ হাজার টাওয়ার, অপারেটরদের মালিকানাধীন একাধিক ডেটা সেন্টার, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) এবং অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক অবকাঠামো রয়েছে। এসব অবকাঠামো স্থিতিশীল, নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
জ্বালানিসংকট ও দুর্যোগপ্রবণতার প্রভাব
বিজ্ঞপ্তিতে অ্যামটব আরও উল্লেখ করেছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লোডশেডিং ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়গুলোতে দেশের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কব্যবস্থা ডিজেল ও পেট্রলচালিত জেনারেটরের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিদ্যমান বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট ছাড়াও বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো বড় ধরনের দুর্যোগপ্রবণ, যা জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট তৈরি করে। তাই জ্বালানি প্রাপ্যতায় যেকোনো বিঘ্ন দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, টেলিকম খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।



