দেশের স্টার্টআপ খাতে প্রথমবারের মতো সংগঠিতভাবে যুক্ত হলো দেশীয় ব্যাংকিং খাত। ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে চালু হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘অঙ্কুর বাংলাদেশ ফান্ড-১’। মঙ্গলবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্ট আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি (বিএসআইসি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই তহবিলের উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একাধিক ব্যাংকের যৌথ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ দেশে শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গঠনের একটি বড় পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এই তহবিলে যুক্ত হবেন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক রূপান্তরের এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা সংস্কৃতি এবং বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন। বিএসআইসি আমাদের তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার প্রতি আস্থা এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সম্ভাবনার প্রতিফলন।”
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের বক্তব্য
বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যারা শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে উদ্ভাবনকে সহায়তা করতে পারবে। বিএসআইসি দেশীয় পুঁজিকে উৎপাদনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা খাতে প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হবে।”
তহবিলের বিবরণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তায় প্রায় ৪২৫ কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই প্ল্যাটফর্ম। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে গত পাঁচ বছরের নিট মুনাফার এক শতাংশ স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগের অনুমতি দেয় এবং বিএসআইসির কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন করে।
স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগের চিত্র
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে ৪৫০টিরও বেশি বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন এসেছে। তবে এর মধ্যে সাত শতাংশেরও কম এসেছে দেশীয় উৎস থেকে।
বিএসআইসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য
বিএসআইসির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, “বিএসআইসি শুধু একটি ফান্ড নয়; এটি এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের স্বপ্নকে পেশাদার ও সুশৃঙ্খল মূলধনের সঙ্গে যুক্ত করবে। ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমর্থনে আমরা স্থানীয় আস্থা এবং বৈশ্বিক ভেঞ্চার মানদণ্ডের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করছি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো আরও শক্তিশালী সুশাসন, উন্নত অর্থায়ন এবং বিশ্বাসযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ মাধ্যমে আশা অংশীদারিত্বের সুযোগ পাবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিএসআইসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ হওয়ার আগেই তারা প্রথম তিনটি বিনিয়োগ সম্পন্ন করবে। এর আগে তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, একজন প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা এবং পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ কমিটি গঠন করা হবে।



