ভাইরাল ভিডিওর পর তাইজুল ইসলামের বিশ্রামহীন জীবনযাত্রা
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ঢাকডহর সরকার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম তাজু। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির হেলপার এই যুবক গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। চলতি বছরের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের পাশে একটি জিলাপির দোকানে তার তোলা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।
মিডিয়া ও দর্শকের অবিরাম ভিড়
ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তাইজুল ইসলামের বাড়িতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসুক জনতা ও মিডিয়া কর্মীরা ছুটে আসছেন। কেউ সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ তার পারিবারিক অসচ্ছলতা দেখে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এসব প্রতিশ্রুতি ও টানা সাক্ষাৎকার দিতে দিতে তাইজুল এখন দিশেহারা অবস্থায় রয়েছেন। তিনি জানান, "প্রতিদিন এত মিডিয়া ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আসে যে নিজের কাজ কিছুই করতে পারছি না। ঠিকমতো বিশ্রাম নিতেও পারছি না।"
পারিবারিক পটভূমি ও অর্থনৈতিক সংকট
তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তাইজুল সবার বড়। তার বাবা ও মা উভয়েই শ্রবণ প্রতিবন্ধী, তাই পরিবারের পুরো দায়িত্ব তার কাঁধেই ন্যস্ত। বাড়িভিটা না থাকায় অন্যের জমিতে দুটো টিনের ঘর তুলে গাদাগাদি করে তাদের থাকতে হয়। গত দেড় বছরে প্রায় ১৪০টি ভিডিও করেছেন বলে জানান তাইজুল। তার তাজু ২.০ নামের ফেসবুক পেজটিতে ভাইরাল হওয়ার আগে ফলোয়ারের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১ হাজার, যা এখন প্রায় ৮ লাখে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের বর্ণনায় বিব্রতকর পরিস্থিতি
স্থানীয়রা জানান, মিডিয়ায় আলোচিত হওয়ার পর থেকেই তাইজুল ইসলাম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। সবাই এসে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা প্রশ্ন করছেন, অনেকে আবার উপঢৌকন নিয়ে এসে রিলস বানানোর চেষ্টা করছেন। তাইজুল বলেন, "আমি তাদের কিছুই বলতে পারছি না, বাধ্য হয়ে তাদের সঙ্গে ভিডিও করছি।" তার মতে, জিলাপি বিক্রির ভিডিওটি প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষ দেখেছেন, যার ফলে তিনি এই অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা ও চাপের সম্মুখীন হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে তাইজুল ইসলামের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও বিশ্রাম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তার জীবনযাত্রা এখন একটি চ্যালেঞ্জিং পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ভাইরাল হওয়ার সুবিধার চেয়েও অসুবিধাগুলো বেশি প্রকট হয়ে উঠছে।



