ফেসবুক কমেন্ট নিয়ে সংঘর্ষে সুনামগঞ্জের ছাতকে ২০ জন আহত, দোকান-ঘরবাড়ি ভাঙচুর
ফেসবুক কমেন্ট নিয়ে সংঘর্ষে সুনামগঞ্জে ২০ জন আহত

ফেসবুক কমেন্ট নিয়ে সংঘর্ষে সুনামগঞ্জের ছাতকে ২০ জন আহত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের কাইল্যাচর গ্রামে ফেসবুকের একটি পোস্টে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি দোকান ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে কাইল্যাচর (চরকালী দাস) গ্রামে সংঘটিত হয়।

আহতদের তালিকা ও চিকিৎসা

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ১০ জনের নাম নিশ্চিতভাবে জানা গেছে। তারা হলেন: লাহিন মিয়া (২০), নুরুল আমিন (৩৫), আব্দুস সোবহান (৫৫), আবু সুফিয়ান (২০), নাছির উদ্দিন (৩৮), সালাহ উদ্দিন (৩৫), আকছার আলী (২২), এমাদ উদ্দিন (২৫), জইন উদ্দিন (৪০) এবং আব্দুল আজিজ (৪২)। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনার পটভূমি ও উত্তেজনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের মৃত তেরাব আলীর ছেলে আব্দুস শহিদের ভাই মাওলানা নজমুল হক নসিব চরমহল্লা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন। ওই পোস্টে গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে লাহিন মিয়া বিরূপ মন্তব্য করলে এ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য রাতেই স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. নুরুল হক ও ব্যবসায়ী হাফিজ আফজাল হোসেন উভয়পক্ষের পোস্ট মুছে ফেলার আহ্বান জানান। তবে, শনিবার সকালে আবারও উত্তেজনা শুরু হয় এবং দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের হস্তক্ষেপ ও আইনি পদক্ষেপ

ছাতক থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয়। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বর্তমানে তদন্ত চালাচ্ছে এবং সম্ভাব্য আরও উত্তেজনা রোধে নজরদারি বাড়িয়েছে।

এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা কীভাবে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।