ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও ব্যক্তিগত করতে নিজেদের অ্যালগরিদমে বড় পরিবর্তন এনেছে মেটা। এখন থেকে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর বাইরে ব্যবহারকারীরা অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপে কী করছেন, সেই তথ্যও সংগ্রহ করবে মেটা। এই ডেটা বিশ্লেষণ করে শুধু বিজ্ঞাপন নয়, বরং নিউজ ফিডের কনটেন্ট, রিলস এবং মেটা এআই-এর উত্তরও নির্ধারণ করা হবে।
ডেটা ব্যবহারের নতুন পদ্ধতি
মেটা নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে তথ্য শেয়ার করা থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট ও অ্যাপের ডেটা এখন ফেসবুকের মূল সিস্টেমে যুক্ত হবে। আগে এই তথ্য শুধু লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার হতো, কিন্তু নতুন আপডেটের ফলে এটি পুরো ফিডের কনটেন্ট নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। যেমন, কেউ যদি অনলাইনে ক্যাম্পিংয়ের তাবু কেনেন, তাহলে ফেসবুকে ঢোকার পর তার ফিডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্রমণ গাইড বা পাহাড়ি অঞ্চলের ভিডিও দেখানো হবে।
বিজ্ঞাপন থেকে কনটেন্ট পারসোনালাইজেশন
মেটার মুখপাত্র এমিল ভাজকুয়েজ জানান, আগে অ্যালগরিদম শুধু অ্যাপের ভেতরের আচরণ—লাইক, কমেন্ট, ভিউ—এর ওপর ভিত্তি করে কনটেন্ট সাজাত। নতুন সিস্টেমে ডেটা সংগ্রহের পরিধি না বাড়িয়ে, বিদ্যমান ডেটা পাইপলাইনের কাজের পরিধি প্রসারিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, মেটা প্ল্যাটফর্মের বাইরের যেকোনো কার্যক্রম এখন ফেসবুকের কনটেন্ট ও এআই ফিচার নিয়ন্ত্রণ করবে।
গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ
একই সঙ্গে মেটা তাদের গোপনীয়তা সেটিংস সহজ করেছে। ব্যবহারকারীরা এখন একটি কেন্দ্রীয় সেটিংস থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন কীভাবে তাদের বাইরের কার্যক্রম বিজ্ঞাপন, কনটেন্ট রেকমেন্ডেশন ও এআই ফিচারে ব্যবহার হবে। যারা চান না মেটা তাদের ওপর নজর রাখুক, তারা 'অ্যাক্টিভিটি ফ্রম আদার কোম্পানিজ' অপশন বন্ধ করে দিতে পারেন। এটি বন্ধ করলে পার্টনার অ্যাপের ডেটা ফিড বা এআই-তে প্রভাব ফেলবে না।
বিশ্বব্যাপী রোলআউট ও বাদ পড়া দেশ
এই আপডেট বিশ্বব্যাপী চালু হচ্ছে, তবে প্রথম ধাপে যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, ইকুয়েডর, থাইল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু দেশের ব্যবহারকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিবর্তন দেখতে পাবেন না।
ফেসবুকের এই পদক্ষেপ ডেটা গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তথ্য সুরক্ষা আন্দোলনকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের রুচি অনুযায়ী কনটেন্ট দেখাতেই এই উদ্যোগ। এই পরিবর্তন স্পষ্ট করে যে, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের নজরদারি এখন অ্যাপের বাইরে ই-কমার্স ও অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারের অভ্যাসেও প্রসারিত হচ্ছে।



