নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ধর্ষণের কারণে ১০ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার অভিযোগে করা মামলার আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. মহন তালুকদারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম ও সদস্যসচিব নাজমুল হুদা খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মহন তালুকদার মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সংগঠনের জরুরি সভা ডেকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।
দলীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা জীবিকার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা গৃহকর্মীর কাজ করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে মহন তালুকদার ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেন মহন তালুকদার। ভয়ে শিশুটি ঘটনাটি কাউকে বলেনি। গত ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ বোধ করে এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। মা মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনা খুলে বলে। পরদিন ক্লিনিকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে মামলার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত থানা-পুলিশকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নিতে নির্দেশ দেন। পরে ২ মে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়। কিন্তু পুলিশ এখনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোয় ‘নেত্রকোনায় ১০ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর গতকাল রাতে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
শিশুটির মা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়েটা ছোট মানুষ। কিছুই বোঝে না। মহন তার জীবনটা নষ্ট করে দিছে। আমি তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
যোগাযোগ করলে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। দ্রুত তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।



