দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ক্লার্ক রেনল্ডস এআই চশমা পরে ব্রাইটন ম্যারাথনে অংশ নিতে যাচ্ছেন
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ক্লার্ক রেনল্ডস এআই চশমা পরে ব্রাইটন ম্যারাথনে

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ক্লার্ক রেনল্ডস এআই চশমা পরে ব্রাইটন ম্যারাথনে অংশ নিতে যাচ্ছেন

বিশ্বে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চশমা পরে ১২ এপ্রিল ঐতিহ্যবাহী ব্রাইটন ম্যারাথনে অংশ নিতে যাচ্ছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ৪৫ বছর বয়সী ক্লার্ক রেনল্ডস। 'রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা' নামক রোগের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি মাত্র ৫ শতাংশ। প্রায় ২৬ মাইল দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে তিনি 'মেটা এআই' চশমা ব্যবহার করবেন, যা খেলাধুলায় প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

বি মাই আইজ অ্যাপের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা

দৌড়ের পুরো সময় জুড়ে 'বি মাই আইজ' অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বেচ্ছাসেবীরা রেনল্ডসকে দিকনির্দেশনা দেবেন। সাধারণত এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের দৈবচয়ন ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যুক্ত করে, কিন্তু মেটা এআই চশমার নতুন 'বি মাই আইজ গ্রুপস' ফিচারটি রেনল্ডসকে একনিষ্ঠ একদল সমর্থক নিয়ে একটি ব্যক্তিগত দল তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে।

এই ম্যারাথনের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের আগে থেকেই নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে দৌড়ের সময় যখনই প্রয়োজন হবে, রেনল্ডস তাঁর পরিচিত এবং আগে থেকে প্রস্তুত একদল মানুষের কণ্ঠস্বরের দিকনির্দেশনা পাবেন, যা তাঁর জন্য একটি নিরাপদ ও কার্যকর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্লার্ক রেনল্ডসের উচ্ছ্বাস ও অভিজ্ঞতা

ক্লার্ক রেনল্ডস, যিনি 'মিস্টার ডট' নামেও পরিচিত, বলেন, 'এটি বিশ্বে প্রথম! আমি দারুণ উচ্ছ্বসিত! বি মাই আইজ ব্যবহারকারী স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় আমিই প্রথম অন্ধ ব্যক্তি হিসেবে একটি পূর্ণ ম্যারাথনে দৌড়াতে যাচ্ছি। এই প্রযুক্তি অত্যন্ত মুক্তিদায়ক।' তিনি আরও যোগ করেন, 'এই অ্যাপ ব্যবহার করা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি যখন দৌড়াতে বের হই, তখন শুধু তিনটি জাদুকরী শব্দ 'বি মাই আইজ' বলি, আর অমনি আমি এমন একজনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাই, যিনি আমাকে সহযোগিতা করবেন।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রেনল্ডসের মতে, এই স্বেচ্ছাসেবীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকতে পারেন, যা প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সংযোগের একটি অনন্য উদাহরণ। তিনি এর আগে একজন গাইড বা পথপ্রদর্শকের সহায়তায় লন্ডন ম্যারাথন সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে এই অ্যাপের মাধ্যমে ১০০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী তাঁকে সহযোগিতা করছেন, যা তাঁর এই চ্যালেঞ্জিং ম্যারাথনে অংশগ্রহণকে আরও সহজ করে তুলেছে।

প্রযুক্তি ও মানবিক সহায়তার সমন্বয়

এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া ইভেন্ট নয়, বরং প্রযুক্তি এবং মানবিক সহায়তার একটি অসাধারণ সমন্বয়। এআই চশমা এবং 'বি মাই আইজ' অ্যাপের ব্যবহার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কীভাবে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং স্বাধীনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্রাইটন ম্যারাথনে রেনল্ডসের অংশগ্রহণ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সম্প্রদায়ের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক পদক্ষেপ। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্রীড়া ও দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করবে, যেখানে সহায়ক প্রযুক্তি মানুষের সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।