ড্রোন হামলা ঠেকাতে রাডারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করছে চীন
ড্রোন হামলা ঠেকাতে রাডারে এআই যুক্ত করছে চীন

ড্রোন হামলা ঠেকাতে রাডারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করছে চীন

আন্তর্জাতিক ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় রাডার প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে চীন। ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় ড্রোন হামলা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি রাডারকে চলমান লক্ষ্যবস্তুকে বিভিন্ন দিক থেকে পর্যবেক্ষণ করতে, গতিশীল তথ্য সংগ্রহ করতে এবং ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ড্রোন শনাক্ত করতেও সহায়তা করবে। খবরটি সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞ শু জিনের বিবৃতি

বুধবার (১১ মার্চ) চীনের শীর্ষ বিমান প্রতিরক্ষা রাডার বিশেষজ্ঞ শু জিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থা চায়নিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্স (সিপিপিসিসি)-এর জাতীয় কমিটির সদস্য। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক রাজনৈতিক অধিবেশন ‘টু সেশনস’-এ তিনি জানান, পরীক্ষায় দেখা গেছে নতুন এআই অ্যালগরিদম রাডারের লক্ষ্য শনাক্ত করার ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছে। বিশেষ করে নিচু উচ্চতায় উড়তে থাকা বিপুল সংখ্যক ড্রোন শনাক্ত করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

শু জিন বর্তমানে চায়না ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (সিইটিসি)-এর ৩৮তম গবেষণা ইনস্টিটিউটে আগাম সতর্কতা ও শনাক্তকরণ প্রযুক্তির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি চীনের বিমান প্রতিরক্ষা রাডার প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং দেশটির প্রথম নিম্ন-উচ্চতার আগাম সতর্কতা রাডারও তারা তৈরি করেছে। তার মতে, স্বল্পমূল্যের আত্মঘাতী ড্রোন যখন ব্যবহার করা হয়, তখন সাধারণত সেগুলোর সংখ্যা অনেক বেশি থাকে, ফলে সেগুলোকে আলাদা করে শনাক্ত করা এবং সম্পূর্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ড্রোন হামলার চ্যালেঞ্জ

শু জিন আরও উল্লেখ করেন, এসব ড্রোন কখনো কখনো সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে এবং বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারে, যা প্রচলিত রাডার ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে দুই পক্ষই ব্যাপকভাবে স্বল্পমূল্যের আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করছে, যা আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। চীনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।