পেন্টাগনের গোপন নেটওয়ার্কে এআই ব্যবহারের অনুমতিতে ওপেনএআই সমালোচিত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের গোপনীয় সরকারি নেটওয়ার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বাধীন ওপেনএআই। সাম্প্রতিক সময়ে পেন্টাগনের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠানটি, যার আওতায় নিরাপদ ও সংরক্ষিত সরকারি ব্যবস্থায় তাদের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়, যেখানে সমালোচকদের একাংশ অভিযোগ করেন যে সামরিক খাতে প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে ওপেনএআই পরোক্ষভাবে সামরিক কার্যক্রমকে সমর্থন করছে।
১৫ লাখের বেশি ব্যবহারকারী সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন
ফোর্বস সাময়িকীর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন চুক্তির ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে ১৫ লাখের বেশি ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটির সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন। তবে এই পরিসংখ্যানটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং গ্রাহক হারানোর অভিযোগ বা সংখ্যার বিষয়ে ওপেনএআই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। বয়কট নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইটগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের সঙ্গে পূর্ববর্তী চুক্তি, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যানের ম্যাগা ইনকে ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদানের খবর এবং সর্বশেষ পেন্টাগন চুক্তি—এই তিনটি বিষয় মিলেই ব্যবহারকারীদের একাংশকে সাবস্ক্রিপশন বাতিলে প্রভাবিত করেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী আনথ্রপিকের অবস্থান ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রতিদ্বন্দ্বী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান আনথ্রপিক যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে তাদের মডেলে ‘অসীমিত প্রবেশাধিকার’ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে এবং এর পরপরই একাংশ ব্যবহারকারী ওপেনএআই ছেড়ে অ্যানথ্রপিকের ক্লড চ্যাটবটে চলে যাচ্ছেন। সপ্তাহান্তে ক্লড অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের ডাউনলোড তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে, যা জনপ্রিয়তায় সাময়িকভাবে চ্যাটজিপিটিকে ছাড়িয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রবণতা দীর্ঘ মেয়াদে কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয় এবং বাজার পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে।
এসব অভিযোগ বা গ্রাহক হারানোর বিষয়ে এখনো ওপেনএআই বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং ব্যবহারকারীদের আস্থা ফিরে পেতে কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পে নৈতিকতা ও সরকারি সহযোগিতা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
