কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স ও ডিজিটাল উদ্ভাবনী দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এআইনির্ভর প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। ‘জিসিআই ওয়ার্ল্ড’ নামের ১৪ সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণে এ বছর ১১৪টি দেশের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী রয়েছেন।
প্রশিক্ষণের আয়োজন ও অংশগ্রহণ
জাইকা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসুও–ইওয়াসাওয়া ল্যাবরেটরির (মাৎসুও ল্যাব) সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাইকা বাংলাদেশ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জিসিআই ওয়ার্ল্ডের মতো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একাডেমিক প্রোগ্রামে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রোগ্রামের বৈশিষ্ট্য
জিসিআই ওয়ার্ল্ড মাৎসুও–ইওয়াসাওয়া ল্যাবরেটরি একটি গ্লোবাল এডুকেশন প্রোগ্রাম, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিং বিষয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গত বুধবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণের সমাপনী পর্বের অনলাইন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষাবিদসহ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশ্বজুড়ে নির্বাচিত ১৭ ‘আউটস্ট্যান্ডিং স্টুডেন্ট’–এর নাম ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের এক শিক্ষার্থী রয়েছেন। আগস্টে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাৎসুও ল্যাব’ পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন তিনি।
হ্যাকাথন ও শেখানো বিষয়
জিসিআই ওয়ার্ল্ডের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জিসিআই ওয়ার্ল্ড হ্যাকাথন, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা এআইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান তৈরি করেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাম্প্রতিক অগ্রগতি, ব্যবসায়িক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ডেটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহারের বিস্তারিত শেখানো হয়।
জাইকার প্রতিনিধির বক্তব্য
জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ মোরিকাওয়া ইউকো বলেন, ‘এআই শিক্ষাকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, গবেষণা ও শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নিজেদের সমস্যার সমাধান বাংলাদেশ নিজ থেকেই করতে পারবে বলে আমি মনে করি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বকে নতুন নতুন উদ্ভাবনও উপহার দিতে পারবে।’



