ঢাবিতে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি সম্মেলন শুরু
ঢাবিতে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি সম্মেলন শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন 'ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর হেলথকেয়ার ইন এলএমআইসি (আইক্যাথ-এলএমআইসি ২০২৬)'। সম্মেলনে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।

যৌথ আয়োজনে সম্মেলন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বিএমইউয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বিবিইএটি লিমিটেড এবং রিলেভ্যান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি, বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা সীমিত সম্পদ দিয়েও কার্যকর ও আধুনিক স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে দেশীয় উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সহায়তা ও প্রণোদনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয়ভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানী, গবেষক, ডাক্তার ও উদ্যোক্তাদের একসঙ্গে কাজ করে দেশের দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও উপযুক্ত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে, যা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করবে, বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় করবে এবং জনকল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঢাবি উপাচার্যের বক্তব্য

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানবকল্যাণে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রয়োগ। তিনি স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিকে সময়ের দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। উপাচার্য উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা, প্রকৌশল ও মৌলিক বিজ্ঞানের সংযোগস্থলে কাজ করে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

উপাচার্য আরও বলেন, দেশীয় গবেষণা টেলিমেডিসিন, ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার, নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনেছে। তিনি উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রসার, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণা ফলাফল ব্যাপক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার ওপর জোর দেন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যান্য বিশেষ অতিথি

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফএম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক একে আজাদ খান, বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ এবং শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ব্রায়ান এইচ ব্রাউন।

অধিবেশন ও মূল প্রবন্ধ

অধিবেশন সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন। সম্মেলন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক খন্দকার সিদ্দিকে-ই রাব্বানী, যিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌফিক হাসানও উদ্বোধনী অধিবেশনে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনের পরিধি

সম্মেলনে বাংলাদেশ ও বিদেশ থেকে খ্যাতনামা বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নীতিনির্ধারক ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, গবেষণা, নীতি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।