বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অভূতপূর্ব হারে বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৯০% শিক্ষার্থী এখন অনলাইন ক্লাসে অংশ নিচ্ছে। এই পরিবর্তন মূলত কোভিড-১৯ মহামারির সময় শুরু হয়েছিল, কিন্তু এখন তা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, 'ডিজিটাল শিক্ষা আমাদের জন্য আর কোনও বিকল্প নয়, এটি এখন বাস্তবতা।'
অনলাইন শিক্ষার প্রসার
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশের ৭০% স্কুল ও কলেজে অনলাইন ক্লাস চালু হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায়ও এই হার ৬০% ছাড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের মাধ্যমে ক্লাস করছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) তৈরি করেছে।
ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন
সরকার ২০২০ সালে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' প্রকল্পের আওতায় শিক্ষাখাতে ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মাধ্যমে ২৫০০টি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, 'শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব' প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ১০০০টি ল্যাব তৈরি হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. জহুরুল হক বলেন, 'আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।'
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ
ডিজিটাল শিক্ষা কার্যকর করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১ লক্ষাধিক শিক্ষক প্রাথমিক ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ৫০০০ শিক্ষককে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষকরা অনলাইন ক্লাস পরিচালনায় আরও দক্ষ হয়ে উঠছেন।'
চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
ডিজিটাল শিক্ষার পথে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট প্রধান বাধা। সরকার 'টেলিকম নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ' প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫ সালের মধ্যে সব ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকার 'ডিজিটাল কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট সেন্টার' স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারঅ্যাকটিভ ভিডিও ও ই-বুক তৈরি হবে। এছাড়া, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষাদানের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, 'আমরা শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।'



