শনিবার এক সেমিনারে শিল্পনেতা ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) সম্প্রসারণ নীতিসহায়তার অভাবে থমকে গেছে, যা উদ্বেগজনক। এটি শুধু একটি সুযোগ হারানো নয়, বরং পরিবহনের অনিবার্য ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে ব্যর্থতা।
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও বিশ্বব্যাপী অগ্রগতি
এমন এক সময়ে যখন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দিন দিন অস্থিতিশীল হচ্ছে, এবং বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো ইভি অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগ করছে, ভর্তুকি দিচ্ছে এবং স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করছে, তখন বাংলাদেশের প্রস্তুতির অভাবে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইভির সুবিধা ও বাংলাদেশের প্রয়োজন
বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য ইভির সুবিধা অনস্বীকার্য: জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস, দূষিত শহরে পরিচ্ছন্ন বায়ু এবং বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্য। তবে এই সুবিধাগুলো পেতে প্রাসঙ্গিক নীতিমালা প্রয়োজন, অন্যথায় সেগুলো নাগালের বাইরে থাকবে।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
বাংলাদেশকে একটি ব্যাপক ইভি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, যেখানে কর, অবকাঠামো ও ভর্তুকি এবং যথাযথ নিবন্ধন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি শুধু বিলাসবহুল ইভির জন্যই নয়, বরং লক্ষ লক্ষ বৈদ্যুতিক তিনচাকার গাড়ির জন্যও প্রযোজ্য, যার প্রায় সবই অনিবন্ধিত। একইসঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানি পুরোপুরি উপেক্ষা না করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।
ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি
বৈশ্বিক ইভি রূপান্তর অনিবার্য। দেশগুলো এখনই অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত লভ্যাংশ পেতে কাজ করছে, আর যারা বিলম্ব করবে তাদের দূষণ ও জ্বালানি নির্ভরতার মূল্য দিতে হবে। তাই বাংলাদেশ প্রতিক্রিয়াশীল না থেকে সক্রিয়ভাবে উপযুক্ত নীতি অনুসরণ করে ভবিষ্যৎ চালিত করতে প্রস্তুত হতে হবে।



