প্রতিদিনই আমাদের ইনবক্সে জমা হয় একাধিক স্প্যাম বা অনাকাঙ্ক্ষিত ই-মেইল। পরিচিত-অপরিচিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নিজেদের পণ্য বা সেবার প্রচারণায় সাধারণত স্প্যাম ই-মেইল পাঠিয়ে থাকে। প্রতিদিন একাধিক স্প্যাম ই-মেইল জমা হওয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইলগুলোও সময়মতো দেখতে না পারার কারণে বিপাকে পড়েন অনেকে। আজ ৩ মে বিরক্তিকর এই স্প্যাম ই-মেইলের জন্মদিন।
স্প্যাম ই-মেইলের ইতিহাস
স্প্যাম ই-মেইলের বিকাশ ১৯৭০ দশকে ছিল বলা যায়। ১৯৭৮ সালের ৩ মে প্রথম বাণিজ্যিক স্প্যাম ই-মেইল পাঠানো হয়। আরপানেটের প্রায় ৪০০ ব্যবহারকারীকে একটি বিজ্ঞাপন পাঠানো হয়েছিল। এটি ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট করপোরেশনের পণ্যের বিজ্ঞাপন ছিল। এটি থেকে তখন ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বিক্রি হয়। তবে সবার প্রতিক্রিয়া ছিল নেতিবাচক।
যদিও স্প্যাম ই-মেইলের বহুল ব্যবহার শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। তখন ইন্টারনেটের বাণিজ্যিক ব্যবহার প্রথম শুরু হয়েছিল। বিপণনকারীরা তখন ইন্টারনেটের নতুন সম্ভাবনা যাচাই করছিলেন। এর ফলে খুব দ্রুতই স্প্যাম ই-মেইল সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এটি এড়ানো তখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
স্প্যাম শব্দের উৎপত্তি ও প্রতিরোধ
১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো স্প্যাম শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এটি ই-মেইলের বদলে ইউজনেট নিউজগ্রুপের পোস্টে ব্যবহৃত হয়েছিল। রিচার্ড ডিপেউ ভুল করে ২০০টি বার্তা পোস্ট করেছিলেন। তখন এক পাঠক সেগুলোকে স্প্যাম বলে উপহাস করেন।
১৯৯৬ সালে ম্যাপস নামক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে আইপি অ্যাড্রেসের একটি তালিকা রাখার কাজ শুরু হয়। একে ‘রিয়েল-টাইম ব্ল্যাকহোল লিস্ট’ বা আরবিএল বলা হয়। অনেক নেটওয়ার্ক ম্যানেজার স্প্যাম রুখতে এটি ব্যবহার করেন। ১৯৯৭ সালে স্প্যাম বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
২০০২ সালে পল গ্রাহাম ‘আ প্ল্যান ফর স্প্যাম’ নামে একটি নিবন্ধ লেখেন। সেখানে তিনি স্প্যাম ফিল্টারিংয়ের উন্নত কৌশল বর্ণনা করেন। এরপর অনেক প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে শুরু করে।
আইন ও প্রযুক্তির অগ্রগতি
২০০৩ সালে সেন্ডার পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তাব করা হয়। এটি ই-মেইল স্পুফিং শনাক্ত করার একটি ব্যবস্থা। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান-স্প্যাম আইন পাস হয়। ২০০৪ সালে বিল গেটস এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, স্প্যাম খুব দ্রুতই অতীত হয়ে যাবে।
সূত্র: ইন্টারনেট সোসাইটি ও মাইক্রোসফট



